BCI-চালিত শব্দ এবং নিউরোসায়েন্সের সাথে সঙ্গীত মেলানোর বিষয়ে তার আবেগের উপর অ্যাঞ্জি সি - Emotiv

BCI-চালিত শব্দ এবং নিউরোসায়েন্সের সাথে সংগীতের মিশ্রণের প্রতি তার আবেগ নিয়ে অ্যাঞ্জি সি

কুওক মিন লাই

সর্বশেষ আপডেট

ডিসে, ২০২১

BCI-চালিত শব্দ এবং নিউরোসায়েন্সের সাথে সঙ্গীত মেলানোর বিষয়ে তার আবেগের উপর অ্যাঞ্জি সি - Emotiv

BCI-চালিত শব্দ এবং নিউরোসায়েন্সের সাথে সংগীতের মিশ্রণের প্রতি তার আবেগ নিয়ে অ্যাঞ্জি সি

কুওক মিন লাই

সর্বশেষ আপডেট

ডিসে, ২০২১

BCI-চালিত শব্দ এবং নিউরোসায়েন্সের সাথে সঙ্গীত মেলানোর বিষয়ে তার আবেগের উপর অ্যাঞ্জি সি - Emotiv

BCI-চালিত শব্দ এবং নিউরোসায়েন্সের সাথে সংগীতের মিশ্রণের প্রতি তার আবেগ নিয়ে অ্যাঞ্জি সি

কুওক মিন লাই

সর্বশেষ আপডেট

ডিসে, ২০২১

সঙ্গীত তৈরি করতে কেবল মন বা মগজকে ব্যবহার করা। অনেকের কাছেই এটি কিছুটা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু, সঙ্গীতশিল্পী এবং পপতারকা অ্যাঞ্জি সি ঠিক এই পথটিই বেছে নিয়েছেন। সঙ্গীত এবং বিজ্ঞানের একনিষ্ঠ প্রেমী – অ্যাঞ্জি কুম্বস (যিনি অ্যাঞ্জি সি নামেও পরিচিত) তাঁর দুটি ভালোবাসাকে একত্রিত করে সত্যিই অনন্য কিছু সৃষ্টির সেরা উপায় খুঁজে পেয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর লেটেস্ট অ্যালবাম "স্টার সিডস্" (Star Seeds) প্রকাশের পাশাপাশি, অ্যাঞ্জি সি Emotiv-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় সঙ্গীত এবং ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI) ডিভাইস ব্যবহার করে এমন এক বিশেষ ঘরানার সঙ্গীত ও শব্দশৈলী তৈরির বিষয়ে কথা বলেছেন, যা তাঁর বিশ্বাসে ভবিষ্যতের রূপরেখা হতে পারে।

সঙ্গীতের প্রতি আপনার এই ভালোবাসা, আপনার কী মনে হয় এটি কোথা থেকে এসেছে?

সঙ্গীতের প্রতি আমার ভালোবাসা সেই ছোট্টবেলা থেকে শুরু। আমার বয়স তখন মাত্র ৩ বছর, যখন মা আমাকে গানের ক্লাসে ভর্তি করিয়ে দেন। আমার মনে আছে, আমি ঘন্টার পর ঘন্টা পিয়ানো বাজাতাম এবং নিজের গান ও সুর লিখতে ভালোবাসতাম। আমার বাবা-মা দুজনেই সঙ্গীতমনা ছিলেন – মা ছিলেন একজন গায়িকা এবং বাবা গিটার বাজাতেন।

শৈশবের এমন কোনো মুহূর্তের কথা কি মনে পড়ে, যখন কোনো নিখুঁত সঙ্গীত শোনার পর আপনার মস্তিস্ক ক্রিসমাস ট্রির মতো আনন্দে ঝলমল করে উঠেছিল?

অবশ্যই, যখন আমি প্রথমবার বিথোভেনের 'মুনলাইট সোনাটা' (Moonlight Sonata) শুনেছিলাম। তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর, এবং আমি আমার পিয়ানো শিক্ষকের কাছে এটি বাজানো শেখার জন্য জেদ ধরেছিলাম। সঙ্গীতের সেই সুরটি আমার জীবন বদলে দিয়েছিল। যতবার আমি এটি বাজাই, এটি আমাকে সম্পূর্ণ অন্য এক জগতে নিয়ে যায়।

আপনার দুটি ভালোবাসা – সঙ্গীত ও বিজ্ঞান, এবং এগুলো সাধারণ মানুষের ধারণার চেয়েও কতটা গভীরভাবে সংযুক্ত, সে বিষয়ে কি একটু বিস্তারিত বলবেন?

সঙ্গীত এবং বিজ্ঞান যে সাধারণ মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি সংযুক্ত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। উদাহরণস্বরূপ, সঙ্গীতের ছন্দ এবং সঠিক সময়ের পরিমাপ শেখা শিশুদের জীবনের শুরুর দিকেই গাণিতিক দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করে বলে প্রমাণিত হয়েছে। আরেকটি মজার তথ্য হলো, সঙ্গীত একটি অত্যন্ত অনন্য বিষয় যা মানুষের পুরো মস্তিস্ককে সক্রিয় করে তোলে – কেবল বাম বা ডান গোলার্ধের কোনো একটিকে নয়। আমরা ঐতিহ্যগতভাবে বিজ্ঞান এবং সঙ্গীতকে সম্পূর্ণ আলাদা ও অসম্পর্কিত হিসেবে দেখে এসেছি। কিন্তু আমার কাছে এটি একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, এবং আমাদের সমাজে এর পরিবর্তন প্রয়োজন। শিক্ষাব্যবস্থা সঙ্গীত ও শিল্পকে প্রায় গুরুত্বহীন মনে করে। তবে আমার মতে, এগুলি মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কারণ এগুলি পুরো মস্তিষ্ককে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে সহায়তা করে।

Angie C is a pioneer in melding music with science, using BCI devices

অ্যাঞ্জি সি-এর বিজ্ঞান ও সঙ্গীতের মেলবন্ধন ঘটানোর প্রতি এক গভীর অনুরাগ রয়েছে।

আপনি একজন ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে, বিজ্ঞান ও সঙ্গীতের এত সফল মেলবন্ধন ঘটিয়ে, আপনি কি উভয় জগতের সেরা দিকগুলো উপভোগ করার পথ খুঁজে পেয়েছেন?

হ্যাঁ, একদম! সঙ্গীত এবং বিজ্ঞানকে মিলিয়ে ফেলা আমাকে প্রচুর আনন্দ দিয়েছে। এটি আমাকে অনেক ভিন্ন স্তরে গিয়ে গতানুগতিক চিন্তাভাবনার বাইরে গিয়ে ভাবতে অনুপ্রাণিত করে। সত্যি বলতে, যখনই আমি কোনো নতুন প্রজেক্ট শুরু করি, তখন একটি খাঁটি যুক্তিভিত্তিক বা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে শুরু করার চেয়ে বরং শৈল্পিক সৃজনশীল ভাবনাকে প্রথমে গুরুত্ব দিই। আমি প্রজেক্টের নকশার ছবি আঁকি, বা প্রজেক্টের অংশগুলো কীভাবে একসাথে কাজ করবে তার বিবরণ লিখে রাখি। মজার ব্যাপার হলো, প্রতিবার যখন আমি এটি করি, তখন এই সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ বা দক্ষতাসম্পন্ন মানুষেরা ম্যাজিকের মতো আমার জীবনে চলে আসেন। তাঁরা এই বিষয়ে আগ্রহ দেখান, এবং পরবর্তীতে আমরা একসাথে কাজ করে প্রজেক্টটিকে বাস্তবে রূপ দিই। এটি আসলে একটি চমৎকার প্রক্রিয়া, যা সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে আপাতদৃষ্টিতে দুটি ভিন্ন ক্ষেত্রকে একত্র করার সুযোগ করে দেয়।

সঙ্গীত তৈরি এবং পরিবেশনের জন্য BCI ডিভাইস ব্যবহারের অন্যতম পথপ্রদর্শক বা পাইওনিয়ার হতে কেমন লাগে?

এটি সত্যিই দারুণ এবং চরম রোমাঞ্চকর অনুভূতি! ২০১৪ সালের সেই দিনটির কথা আমার এখনও মনে আছে যখন আমি প্রথম Emotiv-এর ওয়েবসাইটটি দেখেছিলাম। আমি জানতে পারি যে কোম্পানিটি একটি পোর্টেবল EEG হেডসেট তৈরি করেছে। তার প্রায় ৬ মাস আগে থেকেই আমি এপিলেপসি বা মৃগী রোগে আক্রান্ত রোগীদের খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাইনরাল বিটস (binaural beats) ব্যবহার করার সম্ভাবনা নিয়ে কৌতুহলী ছিলাম। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এই ধরনের বিষয় নিয়ে গবেষণা করার একমাত্র উপায় হলো মাস্টার্স বা পিএইচডি করা, যাতে হাসপাতালের পরিবেশে EEG যন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু আমার পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার খুব একটা ইচ্ছে ছিল না। তাই যখন আমি Emotiv-এর সন্ধান পাই, তখন এই নতুন প্রযুক্তির বিপুল সম্ভাবনা দেখে আমি রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম। যদিও আমি এখনও মৃগী রোগের খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে বাইনরাল বিটস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ পাইনি, তবুও ফ্যাশন টেকনোলজি এবং মিউজিকের দুনিয়ায় Emotiv-এর EEG হেডসেট ব্যবহার করে আরও বেশি সৃজনশীল কাজ করতে পেরে আমি দারুণ উপভোগ করেছি।

আইকনিক 'TONTO' সিন্থেসাইজার ব্যবহার করার সময় প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আপনি একটি BCI ডিভাইস (Emotiv-এর Epoc X হেডসেট) ব্যবহার করেছিলেন। শুধুমাত্র মনের শক্তি দিয়ে TONTO থেকে উৎপন্ন হওয়া সঙ্গীত নিয়ন্ত্রণ করতে পারাটা কেমন অনুভূতি ছিল?

এটি ছিল এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি! সত্যি বলতে, TONTO-র সাথে আমাদের প্রথম অফিসিয়াল পরীক্ষার দিন পর্যন্ত মনে একটি সংশয় কাজ করছিল। আমাদের ইঞ্জিনিয়ার মিচেল ক্ল্যাক্সটন ভ্যাঙ্কুভারে একটি ছোট অ্যানালগ সিন্থেসাইজারের সাহায্যে এই প্রযুক্তির ওপর কাজ করছিলেন। অন্যদিকে, আমার মিউজিক প্রডিউসার এবং আমি ক্যালগারিতে বসে গানের প্রাথমিক ডেমোগুলো তৈরি করছিলাম। আমরা স্টুডিও বেলের টেকনিশিয়ানদের সাথে রেকর্ডিং প্রক্রিয়ার আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছিলাম, যেখানে TONTO-টিকে রাখা আছে।

BCI এবং মিউজিকের মেলবন্ধনে পপস্টার অ্যাঞ্জি সি – Emotiv-এর Epoc X হেডসেট এবং আইকনিক TONTO সিন্থেসাইজার হলো একদম উপযুক্ত জুটি।

আমরা যখন অবশেষে পরীক্ষার দিন স্টুডিও বেলে সবাই জড়ো হলাম, সেটিই ছিল আমাদের এবং TONTO-র প্রথম একত্রিত হওয়া। সেটআপের সময় আমরা সবাই একপ্রকার দম বন্ধ করে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু যখন TONTO থেকে মস্তিষ্কের তরঙ্গ বা ব্রেনওয়েভ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত প্রথম কয়েকটি সুর বের হয়ে এলো, আমার মনে আছে মিচেল বাতাসে হাত ছুঁড়ে আনন্দে চিৎকার করে উঠেছিল, "এটি কাজ করছে! এটি সত্যিই কাজ করছে!" সেটি আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি মুহূর্ত ছিল।

“TONTO, BCI এবং সঙ্গীত – অনুভূতিটি ছিল সত্যিই অবিশ্বাস্য।”

শুধুমাত্র মন দিয়ে TONTO নিয়ন্ত্রণ করার অনুভূতির কথা বলতে গেলে, এটি খুবই আকর্ষণীয় ছিল। আমাকে সঙ্গীতের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতে হতো এবং একই সাথে আমি কী ভাবছিলাম তা চিহ্নিত করতে হতো। এরপর, শব্দের মধ্যে পরিবর্তন আনার জন্য সেই নির্দিষ্ট ভাবনাগুলোর ওপর মনঃসংযোগ করার অনুশীলন করতে হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, আমার শরীরের মধ্য দিয়ে একটি বেগুনি রঙের শিখা নেমে আসছে এমন কল্পনা করে আমি TONTO-র লো-ফ্রিকোয়েন্সি অসিলেটর (LFO)-এর গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম। অপরদিকে, আমার বান্ধবী জেন ছায়াপথের মধ্য দিয়ে উড়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করে রেজোনেন্স এবং কাটঅফের মতো বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছিল। যারা এই হেডসেটটি ব্যবহার করে দেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের মানসিক সংকেত বা থট কিউ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। আমার মনে হয় এটি ব্যবহারকারীর জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে, কারণ এটি তাঁদের নিজস্ব মস্তিস্কের তরঙ্গের প্যাটার্নের ওপর ভিত্তি করে অনন্য উপায়ে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত সঙ্গীত তৈরির সুযোগ দেবে।

সঙ্গীত তৈরির জন্য BCI ডিভাইস ব্যবহার করে করা আপনার TONTO রেকর্ডিংটি বেশ ভালো প্রচার পেয়েছিল। সঙ্গীত জগতের ভেতরের মহলে এর প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

এখনও পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে, বিশেষ করে মেকার (Maker) এবং সিন্থ (Synth) কমিউনিটিতে। এই বছরের মেকার মিউজিক ফেস্টিভ্যালে এটি বেশ সমাদৃত হয়েছে এবং মেকার ফেয়ার শেনঝেন (Maker Faire Shenzhen) দ্বারা বিশেষভাবে প্রদর্শিত হয়েছে। আমার এই অ্যালবামের মুক্তির সাথে সাথে এর প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমি আশা করি। এতে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত TONTO-র সমস্ত সুর মিশ্রিত রয়েছে। আমি আশা করি যে এটি বিশ্বের অন্যান্য মানুষ এবং শিল্পীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের নতুন পথ খুঁজে পেতে অনুপ্রাণিত করবে। এবং অবশ্যই, এটি নিউরোসায়েন্স ও নিউরোটেকনোলজির ক্রমবর্ধমান ক্ষেত্রটিকে মানুষের সামনে তুলে ধরবে বলে আমি আশাবাদী। আমরা অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এক সময়ে বাস করছি!

সঙ্গীতের সাথে নিউরোটেকনোলজিকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে কিছুটা আপত্তি বা বাধা সবসময়ই ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে আপনার কী বলার আছে?

এটি একটি দারুণ প্রশ্ন। আমার মনে হয় যেহেতু এটি এখনও একটি সম্পূর্ণ নতুন ধারণা, তাই এটিকে বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হতে হয়; বিশেষ করে মানুষের মনে যখন মাইন্ড-কন্ট্রোল বা অন্য কেউ তাঁদের চিন্তাভাবনা জেনে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে একটি অস্বস্তি বা শঙ্কা কাজ করে। আমার মনে আছে, যখন আমি আমার ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত এলইডি পোশাক (যা Musethereal নামে পরিচিত) প্রদর্শন করছিলাম, তখন অনেকের মনেই একটা ভয় কাজ করছিল যে কেউ হয়তো তাদের মনের কথা জেনে যেতে পারবে। কিন্তু ইইজি (EEG) প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। আমরা অবশ্যই EEG প্রযুক্তির সাহায্যে মস্তিস্কের বৈদ্যুতিক ক্রিয়াকলাপের প্যাটার্ন দেখতে পারি, তবে এর মাধ্যমে কারও মনে কী চলছে বা মাইন্ড রিড করা সম্ভব নয়।

“নিউরোটেক, BCI এবং সঙ্গীতের এই যৌথ মেলবন্ধনের বহুবিধ উপযোগিতা রয়েছে।”

সঙ্গীতের সাথে নিউরোটেকনোলজিকে যুক্ত করার কথা বলতে গেলে, এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয়, বিশেষ করে এমন একজন মানুষের জন্য যিনি শারীরিকভাবে অক্ষম এবং কোনো প্রচলিত বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারেন না। এটি অবশ্যই তাঁদের জন্য অনেক নতুন পথ উন্মুক্ত করবে এবং এই নতুন মাধ্যমের সাহায্যে নিজেদের প্রকাশ ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে তাঁদের জীবনে আরও অনেক আনন্দ নিয়ে আসবে।

আমার মনে হয় এটি মিউজিক প্রডিউসারদের জন্যও দারুণ এক সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে। প্রায় ১০ বছর আগে, একটি রেভ পার্টিতে যাওয়ার পর, সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার মাথায় একটি অসাধারণ ট্র্যান্স ট্র্যাকের সুর আসছিল, কিন্তু প্রচুর সময় এবং শক্তি ব্যয় করে মিউজিক প্রোডাকশন করা ছাড়া এটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কোনো উপায় আমার কাছে ছিল না। সেদিনই পরে আমি আমার কয়েকজন ডিজে প্রডিউসার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় মজা করে বলেছিলাম, "আমি সেই দিনটির অপেক্ষায় আছি যেদিন আমরা আক্ষরিক অর্থেই শুধু চিন্তা করেই সুর তৈরি করতে পারব।" তখন আমি কেবল কৌতুক করেই কথাটা বলেছিলাম, তবে এখন যখন আমি নিজেই ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত সঙ্গীত তৈরি করছি, আমার মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে "চিন্তার মাধ্যমে সঙ্গীত সৃষ্টি করা" একটি বহুল প্রচলিত ও স্বীকৃত উপায়ে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

সঙ্গীত এবং নিউরোটেকনোলজির পারস্পরিক সম্পর্কের নিরিখে আপনি এর ভবিষ্যৎ কোথায় দেখছেন?

ভবিষ্যতে, আমি এমন দৃশ্য কল্পনা করি যেখানে মানুষ মাথায় একটি ব্রেনওয়েভ হেডসেট বা BCI ডিভাইস পরে কম্পিউটারের সামনে বসবে এবং এটিকে চমৎকার সঙ্গীত তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। আমার মনে হয় নিউরোটেকনোলজি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) যেভাবে এগিয়ে চলেছে, সঙ্গীতের সুর বা শব্দের জন্য প্রেডিক্টিভ অ্যালগরিদম তৈরি করতে এদের পরস্পরের মেলবন্ধন ঘটতেই থাকবে।

BCI devices, like the ones produced by EMOTIV, are helping in creating a unique genre of music

অ্যাঞ্জি সি বিশ্বাস করেন যে সঙ্গীতের ভবিষ্যৎ লুকিয়ে রয়েছে BCI এবং নিউরোটেকনোলজির মাঝে।

উদাহরণস্বরূপ, আমরা যদি রেডিওলজি ক্ষেত্রের দিকে তাকাই, তবে দেখব যে মানুষের চোখের চেয়েও এআই অত্যন্ত নিখুঁত ও দ্রুত স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করতে পারে। এই দক্ষতাকে যদি আমরা সঙ্গীত এবং নিউরোটেকনোলজির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করি, তবে এটি যুক্তিযুক্ত যে কোনো একদিন মানুষ কেবল একটি স্নেয়ার ড্রামের কথা মনে মনে ভাববে, আর এআই সেই নির্দিষ্ট ব্রেনওয়েভ প্যাটার্নটিকে শনাক্ত করে বুঝে নেবে, "আরে, এটি তো স্নেয়ার ড্রামের সুর!", এবং তারপর লজিক প্রো (Logic Pro), প্রো টুলস (ProTools) ইত্যাদির মতো ডিজিটাল অডিও ওয়ার্কস্টেশনকে (DAW) স্নেয়ার ড্রামের জন্য একটি MIDI প্যাটার্ন তৈরি করার নির্দেশ দেবে। শুনতে অসম্ভব মনে হলেও, আমার বিশ্বাস আগামী ৫-১০ বছরের মধ্যে এটি করা সম্ভব হবে।

নিউরোটেক এবং সঙ্গীতে BCI ডিভাইসের ব্যবহার বহুলাংশে ফলপ্রসূ হতে পারে, বিশেষ করে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের জন্য। বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের গান তৈরি ও শোনার চিরাচরিত পদ্ধতিতে বিসিআই ডিভাইস বা এই প্রযুক্তি কীভাবে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে, সে সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

আমার মনে হয় নিউরোটেক এবং BCI ডিভাইসের ব্যবহার বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য নতুন সম্ভাবনার বহু দুয়ার খুলে দেবে। প্রকৃতপক্ষে, এটি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। কানাডার আলবার্টার ক্যালগারির একজন পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিস্ট ড. অ্যাডাম কার্টন BCI4Kids নামে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাঁরা বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করতে এবং এই প্রযুক্তিগুলিকে কীভাবে ব্যবহার করে সেই শিশুদের এবং তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা যায় তা নিয়ে গবেষণা করছেন। জন নামে একটি ছোট ছেলে কেবল তার চিন্তাভাবনা ব্যবহার করে সুন্দর সুন্দর ছবি তৈরি করার জন্য BCI ব্যবহার করছে – এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য! আপনি যদি তার তৈরি কিছু শিল্পকর্ম দেখতে চান তবে তার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল @brainpaintbyjohn দেখতে পারেন।

আমি ড. কার্টন এবং তাঁর দলের সাথে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত সঙ্গীতের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছি। BCI4Kids-এর সাথে আমরা কী তৈরি করতে পারি তা দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

সঙ্গীত সৃষ্টির জন্য একটি BCI ডিভাইস ব্যবহারের সুবিধাগুলি কী কী? এটি চিরাচরিত পদ্ধতির থেকে কীভাবে আলাদা?

আমার মনে হয় একটি BCI ডিভাইস দিয়ে সঙ্গীত তৈরির মূল সুবিধা হলো এটি কোনো শারীরিক বাদ্যযন্ত্র বাজানোর প্রয়োজনীয়তা দূর করে। মানব মস্তিষ্ক এক অপার মহিমায় উজ্জ্বল এবং আমাদের চিন্তাভাবনার গতিতে আমরা কল্পনার অনেক দূর পর্যন্ত পরিভ্রমণ করতে পারি। আমার সত্যিই মনে হয় BCI প্রযুক্তি সঙ্গীতের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের চাবিকাঠি হতে চলেছে। আমার প্রডিউসার ট্রে মিলস এবং আমি দুজনেই একমত যে একটি BCI হেডসেট ব্যবহার করে আমরা এখনও পর্যন্ত সঙ্গীতের সবচেয়ে জাদুকরী মুহূর্তগুলির অভিজ্ঞতা লাভ করেছি।

আপনি কি মনে করেন এই পদ্ধতিটি আগামী দিনে পুরো সঙ্গীত জগতকে নিজের দখলে নিয়ে নেবে?

আমার মনে হয়, একটা সময় আসবে যখন সঙ্গীত তৈরির জন্য BCI ডিভাইস ব্যবহার করা একটি সাধারণ অভ্যাস হয়ে উঠবে। প্রযুক্তি ক্রমাগত বিবর্তিত হচ্ছে এবং পুরনো সংস্করণগুলির চেয়ে আরও উন্নত হচ্ছে। ভাবলেই অবাক লাগে যে বাজারে প্রথম পার্সোনাল কম্পিউটার আসার পর মাত্র ৪০-৫০ বছর কেটেছে। আর আজ আমাদের কাছে এমন স্মার্টফোন রয়েছে যা আমরা আক্ষরিক অর্থেই আমাদের পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াই – এটি সত্যিই অসাধারণ। আমি বিশ্বাস করি যে একবার BCI প্রযুক্তি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এবং নিউরোটেকনোলজি, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও এআই-এর পারস্পরিক মেলবন্ধন আরও গভীর হলে এই সঙ্গীত সৃষ্টির পদ্ধতিটি যে সঙ্গীত জগতের একটি মূল স্তম্ভ হয়ে উঠবে, সে বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।

২০১৬ সালে মেকফ্যাশন ওয়্যারেবল টেকনোলজি গালা-তে যখন আপনার ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত এলইডি পোশাকটি প্রদর্শিত হয়েছিল, তখন আপনি এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। বিগত পাঁচ বছরে নিউরোটেকনোলজি কতটা এগিয়েছে বলে আপনি মনে করেন? আর বিজ্ঞানের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে আপনার ধারণা কী? সঙ্গীতের ক্ষেত্রে এবং আরও বৃহত্তর অর্থে আপনার অভিমত কী?

হা হা, চমৎকার রসিকতা 🙂 আমাকে বলতেই হবে যে গত ৫ বছরে নিউরোটেকনোলজি যেভাবে এগিয়েছে তা দেখে আমি সত্যি মুগ্ধ। আমি মূলত ২০১৬ সালে Emotiv EPOC+ ব্রেনওয়েভ হেডসেট নিয়ে কাজ শুরু করি। সেই সময়ে, Emotiv-এর কিছু সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের ইন্টিগ্রেশন অন্যদের তুলনায় বেশি উন্নত ছিল। ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত এলইডি পোশাকটির নকশা করার সময় আমাদের যে বিষয়টিকে মাথায় রাখতে হয়েছিল তা হলো আমাদের এমন একটি কম্পিউটার প্রসেসিং সিস্টেমের প্রয়োজন ছিল যা সহজে বহনযোগ্য বা পোর্টেবল হতে পারে।

Emotiv-এর ডেস্কটপ সফটওয়্যার প্রোগ্রামটি বেশ সমৃদ্ধ ছিল, কিন্তু র‍্যাম্পে হাঁটার সময় ব্যাকপ্যাকে ল্যাপটপ বহন করা ফ্যাশনের সাথে মোটেও মানানসই নয়। তাই, তার পরিবর্তে আমাদের ইঞ্জিনিয়ার একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য অ্যাপ তৈরি করেছিলেন যা EPOC+ হেডসেট থেকে ডাটা প্রসেস করতে পারত এবং সেটিকে একটি মাইক্রোকন্ট্রোলারে পাঠাতে পারত যা পোশাকের এলইডি লাইটগুলোর সাথে যুক্ত ছিল। মাইক্রোকন্ট্রোলার এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোন দুটিই পোশাকের পিছনের একটি পকেটে সহজেই লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছিল।

Angie C truly believe science and music go hand in hand

২০১৬ সালে মেকফ্যাশন ওয়্যারেবল টেকনোলজি গালা-তে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত এলইডি পোশাকটি (একটি BCI ডিভাইসের সাহায্যে) প্রদর্শন করা হয়েছিল।

“Emotiv-এর Epoc X সত্যিই অত্যন্ত আকর্ষণীয় দেখতে।”

আর আজকের দিনে দাঁড়িয়ে – Emotiv-এর বিভিন্ন প্রোডাক্ট এবং সফটওয়্যার কোম্পানিটিকে নিউরোটেকনোলজির বাজারে শীর্ষস্থানে নিয়ে এসেছে। আমি নিজেই সম্প্রতি নতুন Epoc X হেডসেটটি অর্ডার করেছি, এবং এটি নিয়ে নতুন কাজ শুরু করতে আমি তর সইছে না!

বিজ্ঞানের এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ এই শাখার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা বলতে গেলে, আমার মনে হয় আমরা কেবল সম্ভাবনার উপরিভাগ স্পর্শ করেছি, ভবিষ্যতে আরও কত কী যে সম্ভব হবে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। ২০০২ সালে যখন ডালহৌসি ইউনিভার্সিটিতে (Dalhousie University) নিউরোসায়েন্সের ক্লাস শুরু করি, তখন নিউরোসায়েন্সের ক্ষেত্রটি কতটা নতুন এবং তুলনামূলকভাবে কতটা অনাবিষ্কৃত ছিল তা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। বিজ্ঞান ও চিকিৎসার অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা যেখানে এত প্রভূত উন্নতি করেছি, সেখানে মানব মস্তিস্ক নিয়ে গবেষণায় আমরা কেন একই রকম শক্তি ও আগ্রহ প্রকাশ করিনি তা আমার কাছে সত্যিই এক বড় বিস্ময় ছিল।

“নিউরোটেকের মাধ্যমে মনের গহীনে অনুসন্ধান।”

অনেকেরই মনে হতে পারে যে এটিই সবচেয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ছিল, কারণ মস্তিস্কই আমাদের প্রকৃত অর্থে সাধারণ থেকে অনন্য মানুষ করে তোলে। কিন্তু কোনো কারণে, হয়তো এর জটিল গঠনের কারণে, মস্তিষ্ক এবং আমাদের মন কীভাবে কাজ করে তা বোঝার পথে আমরা কেবল যাত্রা শুরু করেছি। BCI ডিভাইসগুলি অবশ্যই এই ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করেছে। আমি মনে করি যে নিউরোটেকনোলজিক্যাল ডিভাইসের সাহায্যে মানব মনকে জানার মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের এবং এই জীবনকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সক্ষম হব। নিজের চিন্তাভাবনাকে আরও উন্নত করতে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাকে কীভাবে "হ্যাক" করা যায় তা শিখতে পারাটা আমাদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

আপনার গানের কোন দিকগুলিতে BCI ডিভাইসের ছোঁয়া রয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো শ্রোতাকে সংক্ষেপে কিছু বলবেন? এবং আপনি কীভাবে এই ধরনের সঙ্গীত সৃষ্টি করেন?

আমার অ্যালবামের প্রতিটি গানে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত TONTO-র একটি বিশেষ ছোঁয়া রয়েছে। যেহেতু আমাদের কাছে রেকর্ডিংয়ের জন্য মাত্র দুই দিন সময় ছিল, তাই প্রতিটি গানে কোন বিষয়ের ওপর বেশি ফোকাস করব তার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের নামতে হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, অ্যালবামের প্রথম গান 'ম্যাগনাম চেরি' (Magnum Cherry)-তে গানের শেষ অংশে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত TONTO লিড সিন্থ সুর রয়েছে, যেখানে 'ওয়ার্ল্ডস অ্যাওয়ে' (Worlds Away)-তে একটি "ব্রেনওয়েভ সোলো" মাঝের অংশে রয়েছে যা শুনলে মনে হয় যেন কোনো মহাকাশযান আকাশে উড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও অ্যালবামের অন্যান্য কয়েকটি গানেও আমরা ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত পিয়ানো এবং বাইনরাল বিটস নিয়ে কাজ করেছি।

একটি BCI ডিভাইস দিয়ে সঙ্গীত তৈরির এই পদ্ধতিটি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

“আমি মনে মনে একটি বেগুনি রঙের শিখা কল্পনা করেছিলাম।”

কাজের প্রক্রিয়াটির কথা বলতে গেলে, আমরা TONTO থেকে আসা শব্দ নিয়ন্ত্রণ করতে Emotiv-এর ইমোশনাল স্টেট অ্যালগরিদম ব্যবহার করেছিলাম। আমাদের ইঞ্জিনিয়ার একটি থার্ড-পার্টি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন যা হেডসেট পরিহিত ব্যক্তির মানসিক আবেগ ক্ষণে ক্ষণে কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে (যেমন চাপ, সম্পৃক্ততা, উত্তেজনা) তা আমাদের দেখতে সাহায্য করত। এরপর তিনি সেই সূচকগুলোকে ব্যবহার করে তাঁর তৈরি একটি বিশেষ ডিভাইস "ব্রেন বক্স" (Brain Box)-এর মাধ্যমে TONTO-তে নিয়ন্ত্রণ ভোল্টেজ বা কন্ট্রোল ভোল্টেজ সিগন্যাল পাঠাতেন।

হেডসেট পরিহিত ব্যক্তির ওপর দায়িত্ব থাকত এটি নির্ধারণ করা যে কোন ধরনের চিন্তাভাবনা TONTO থেকে আসা মূল শব্দ বা সুরে পরিবর্তন আনছে। আমার ক্ষেত্রে, যেমন মনে মনে নিঃশব্দে "কেন" প্রশ্নটি করা, অথবা আমার শরীরের মধ্য দিয়ে একটি বেগুনি রঙের শিখা নেমে আসার কল্পনা করা – এই বিষয়গুলো আমাকে পিচ, এলএফও রেট এবং কাটঅফের মতো দিকগুলো সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করেছিল। এটি অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক এবং আনন্দদায়ক এক অভিজ্ঞতা ছিল।

নিউরোটেকনোলজি এবং নিউরো রিসার্চকে আরও ব্যাপক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য Emotiv এর মতো কোম্পানিগুলির প্রচেষ্টাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

আমার মনে হয় Emotiv-এর মতো কোম্পানিগুলি মস্তিষ্ক এবং নিউরো গবেষণার ক্ষেত্রটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এক অসামান্য অবদান রাখছে। সঙ্গীত ও সৃজনশীল ক্ষেত্রে নিউরোটেকনোলজির প্রয়োগের পাশাপাশি, ক্রাউড-সোর্সড নিউরোলজিক্যাল রিসার্চের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি সাধিত হতে চলেছে তা নিয়েও আমি সমানভাবে আশাবাদী। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে আমি দেখেছি যে প্রথাগত বা চিরাচরিত গবেষণা অত্যন্ত ধীরগতিতে চলে এবং অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ও ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। Emotiv যে রিসার্চ-গ্রেড হেডসেটগুলি তৈরি করেছে তা প্রথাগত ইইজি (EEG) গবেষণার সাথে জড়িত অনেক বাঁধাকেই দূর করে দেয়। অংশগ্রহণকারীদের কোনো স্থানীয় হাসপাতালের মতো জায়গায় না গিয়েও, তাঁরা এখন কেবল তাঁদের ব্রেনওয়েভ হেডসেট পরে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে যেকোনো মস্তিষ্কের গবেষণামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে ইন্সট্যান্টলি অংশ নিতে পারেন। আমার মতে, এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দুনিয়ায় অত্যন্ত চমৎকার এক বাস্তব সত্য।

আপনি Emotiv-এর বৈপ্লবিক হেডসেট ব্যবহার করে কিছু মনে রাখার মতো অসাধারণ গান তৈরি করেছেন। এই প্রযুক্তি এবং আপনার মতো শিল্পীদের জন্য এর গুরুত্ব কেমন, সে সম্পর্কে কিছু বলুন?

Emotiv-এর BCI হেডসেট সৃজনশীল হওয়ার এক সম্পূর্ণ নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। শিল্পী হিসেবে আমাদের অন্বেষণ করার মতো অনেক কিছুই রয়েছে এবং আমি অন্যান্য শিল্পীদের সঙ্গীত ও শিল্প তৈরির এই নতুন পদ্ধতিটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য উৎসাহিত করব। এটি দিয়ে নিজের সৃষ্টিশীলতাকে নতুন রূপ দিন!

অ্যাঞ্জি সি-এর নতুন অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও – Worlds Away.

আপনার বহুল প্রত্যাশিত অ্যালবাম “স্টার সিডস্” (Star Seeds) ২৬শে নভেম্বর, শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে? শ্রোতারা এই অ্যালবাম থেকে কী আশা করতে পারেন?

২৬শে নভেম্বর আমার অ্যালবামটি মুক্তি পাওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই অ্যালবামটি শ্রোতাদের মনের গভীর অন্ধকার ও বিষাদময় পরিবেশ থেকে মুক্তি ও স্বাধীনতার এক ভিন্ন মহাজাগতিক সফরে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। আমি আমার গানের কথায় দ্ব্যর্থবোধক শব্দের খেলা রাখতে ভালোবাসি, তাই প্রতিটি লাইনের গভীরে অনেক গুপ্ত বার্তা এবং ভিন্ন অর্থ লুকিয়ে রয়েছে। আমি রুমি-র মতো মহান লেখক ও দার্শনিকদের অনেক বড় ভক্ত, যাঁর লেখা মাত্র অল্প কয়েকটি কথাতেই প্রকাশ পায় অসীম জ্ঞান; আপনার মনকে যদি একটু ঘুরে বেড়াতে দেন, তবে তা গভীর ভাবনায় মগ্ন হতে সাহায্য করে। এই অ্যালবামে আমি সেই অনুভূতিকেই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

সোনিকেলি বা শব্দের দিক থেকে বিচার করলে, আমি এই অ্যালবামটিকে ইলেক্ট্রো-পপ হিসেবে চিহ্নিত করব, তবে আমরা এতে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত পিয়ানোর মতো বেশ কিছু মজার জিনিস যুক্ত করেছি। যে ঘরে TONTO ছিল, সেখানেই ১৯০০ সালের একটি 'জন ব্রডউড অ্যাকোস্টিক গ্র্যান্ড পিয়ানো' (John Broadwood Acoustic Grand Piano) ছিল, তাই আমরা পিয়ানোটি রেকর্ড করার সিদ্ধান্ত নিই। এবং তারপর সেই শব্দটিকে TONTO-র ফিল্টারের মধ্য দিয়ে চালনা করে আমাদের মস্তিস্কের তরঙ্গের সাহায্যে সুরটিকে পছন্দমতো সাজিয়ে নিই। এটি অত্যন্ত পরীক্ষামূলক একটি কাজ ছিল, যার ফলস্বরূপ আমরা একটি আকর্ষণীয় রেকর্ডিং পেয়েছি এবং সাথে একটি চমৎকার ব্যাকস্টোরিও রয়েছে।

আপনি কি আপনার স্বভাবসুলভ ঘরানার শৈলী বজায় রেখেছেন? নাকি “স্টার সিডস্”-এ শ্রোতাদের জন্য আরও অনেক চমক ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা অপেক্ষা করছে?

জানেন কি, আমার মনে হয় আমি অবশেষে আমার সুরের প্রকৃত শৈলী খুঁজে পেয়েছি এই "স্টার সিডস্" অ্যালবামের মাধ্যমে। বেশ কয়েক বছর ধরে আমি হয় সিঙ্গার-সংরাইটার মেজাজে গান লিখছিলাম ও রেকর্ড করছিলাম, অথবা ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিকের জন্য ভোকাল দিচ্ছিলাম। এই অ্যালবামটি তৈরি করা আমাকে সেই দুটি শৈলীর এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটাতে সাহায্য করেছে যার ফলে এমন একটি সুর তৈরি হয়েছে যা সত্যি অনন্য শোনাচ্ছে এবং এর জন্য আমার প্রডিউসার ট্রে মিলস-কে ধন্যবাদ জানাতেই হয়। কোনো শিল্পী নিজের সুর বা স্টাইল কীভাবে বেছে নেবেন সে বিষয়ে তিনি অসামান্য গাইডেন্স দিতে পারেন। এটি কেবল তাঁদের সঙ্গীতের ধরনের ওপর নির্ভর করে না, বরং একজন মানুষ হিসেবে তাঁরা কেমন, তাও ফুটিয়ে তোলে।

সঙ্গীত তৈরি করতে কেবল মন বা মগজকে ব্যবহার করা। অনেকের কাছেই এটি কিছুটা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু, সঙ্গীতশিল্পী এবং পপতারকা অ্যাঞ্জি সি ঠিক এই পথটিই বেছে নিয়েছেন। সঙ্গীত এবং বিজ্ঞানের একনিষ্ঠ প্রেমী – অ্যাঞ্জি কুম্বস (যিনি অ্যাঞ্জি সি নামেও পরিচিত) তাঁর দুটি ভালোবাসাকে একত্রিত করে সত্যিই অনন্য কিছু সৃষ্টির সেরা উপায় খুঁজে পেয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর লেটেস্ট অ্যালবাম "স্টার সিডস্" (Star Seeds) প্রকাশের পাশাপাশি, অ্যাঞ্জি সি Emotiv-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় সঙ্গীত এবং ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI) ডিভাইস ব্যবহার করে এমন এক বিশেষ ঘরানার সঙ্গীত ও শব্দশৈলী তৈরির বিষয়ে কথা বলেছেন, যা তাঁর বিশ্বাসে ভবিষ্যতের রূপরেখা হতে পারে।

সঙ্গীতের প্রতি আপনার এই ভালোবাসা, আপনার কী মনে হয় এটি কোথা থেকে এসেছে?

সঙ্গীতের প্রতি আমার ভালোবাসা সেই ছোট্টবেলা থেকে শুরু। আমার বয়স তখন মাত্র ৩ বছর, যখন মা আমাকে গানের ক্লাসে ভর্তি করিয়ে দেন। আমার মনে আছে, আমি ঘন্টার পর ঘন্টা পিয়ানো বাজাতাম এবং নিজের গান ও সুর লিখতে ভালোবাসতাম। আমার বাবা-মা দুজনেই সঙ্গীতমনা ছিলেন – মা ছিলেন একজন গায়িকা এবং বাবা গিটার বাজাতেন।

শৈশবের এমন কোনো মুহূর্তের কথা কি মনে পড়ে, যখন কোনো নিখুঁত সঙ্গীত শোনার পর আপনার মস্তিস্ক ক্রিসমাস ট্রির মতো আনন্দে ঝলমল করে উঠেছিল?

অবশ্যই, যখন আমি প্রথমবার বিথোভেনের 'মুনলাইট সোনাটা' (Moonlight Sonata) শুনেছিলাম। তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর, এবং আমি আমার পিয়ানো শিক্ষকের কাছে এটি বাজানো শেখার জন্য জেদ ধরেছিলাম। সঙ্গীতের সেই সুরটি আমার জীবন বদলে দিয়েছিল। যতবার আমি এটি বাজাই, এটি আমাকে সম্পূর্ণ অন্য এক জগতে নিয়ে যায়।

আপনার দুটি ভালোবাসা – সঙ্গীত ও বিজ্ঞান, এবং এগুলো সাধারণ মানুষের ধারণার চেয়েও কতটা গভীরভাবে সংযুক্ত, সে বিষয়ে কি একটু বিস্তারিত বলবেন?

সঙ্গীত এবং বিজ্ঞান যে সাধারণ মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি সংযুক্ত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। উদাহরণস্বরূপ, সঙ্গীতের ছন্দ এবং সঠিক সময়ের পরিমাপ শেখা শিশুদের জীবনের শুরুর দিকেই গাণিতিক দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করে বলে প্রমাণিত হয়েছে। আরেকটি মজার তথ্য হলো, সঙ্গীত একটি অত্যন্ত অনন্য বিষয় যা মানুষের পুরো মস্তিস্ককে সক্রিয় করে তোলে – কেবল বাম বা ডান গোলার্ধের কোনো একটিকে নয়। আমরা ঐতিহ্যগতভাবে বিজ্ঞান এবং সঙ্গীতকে সম্পূর্ণ আলাদা ও অসম্পর্কিত হিসেবে দেখে এসেছি। কিন্তু আমার কাছে এটি একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, এবং আমাদের সমাজে এর পরিবর্তন প্রয়োজন। শিক্ষাব্যবস্থা সঙ্গীত ও শিল্পকে প্রায় গুরুত্বহীন মনে করে। তবে আমার মতে, এগুলি মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কারণ এগুলি পুরো মস্তিষ্ককে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে সহায়তা করে।

Angie C is a pioneer in melding music with science, using BCI devices

অ্যাঞ্জি সি-এর বিজ্ঞান ও সঙ্গীতের মেলবন্ধন ঘটানোর প্রতি এক গভীর অনুরাগ রয়েছে।

আপনি একজন ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে, বিজ্ঞান ও সঙ্গীতের এত সফল মেলবন্ধন ঘটিয়ে, আপনি কি উভয় জগতের সেরা দিকগুলো উপভোগ করার পথ খুঁজে পেয়েছেন?

হ্যাঁ, একদম! সঙ্গীত এবং বিজ্ঞানকে মিলিয়ে ফেলা আমাকে প্রচুর আনন্দ দিয়েছে। এটি আমাকে অনেক ভিন্ন স্তরে গিয়ে গতানুগতিক চিন্তাভাবনার বাইরে গিয়ে ভাবতে অনুপ্রাণিত করে। সত্যি বলতে, যখনই আমি কোনো নতুন প্রজেক্ট শুরু করি, তখন একটি খাঁটি যুক্তিভিত্তিক বা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে শুরু করার চেয়ে বরং শৈল্পিক সৃজনশীল ভাবনাকে প্রথমে গুরুত্ব দিই। আমি প্রজেক্টের নকশার ছবি আঁকি, বা প্রজেক্টের অংশগুলো কীভাবে একসাথে কাজ করবে তার বিবরণ লিখে রাখি। মজার ব্যাপার হলো, প্রতিবার যখন আমি এটি করি, তখন এই সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ বা দক্ষতাসম্পন্ন মানুষেরা ম্যাজিকের মতো আমার জীবনে চলে আসেন। তাঁরা এই বিষয়ে আগ্রহ দেখান, এবং পরবর্তীতে আমরা একসাথে কাজ করে প্রজেক্টটিকে বাস্তবে রূপ দিই। এটি আসলে একটি চমৎকার প্রক্রিয়া, যা সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে আপাতদৃষ্টিতে দুটি ভিন্ন ক্ষেত্রকে একত্র করার সুযোগ করে দেয়।

সঙ্গীত তৈরি এবং পরিবেশনের জন্য BCI ডিভাইস ব্যবহারের অন্যতম পথপ্রদর্শক বা পাইওনিয়ার হতে কেমন লাগে?

এটি সত্যিই দারুণ এবং চরম রোমাঞ্চকর অনুভূতি! ২০১৪ সালের সেই দিনটির কথা আমার এখনও মনে আছে যখন আমি প্রথম Emotiv-এর ওয়েবসাইটটি দেখেছিলাম। আমি জানতে পারি যে কোম্পানিটি একটি পোর্টেবল EEG হেডসেট তৈরি করেছে। তার প্রায় ৬ মাস আগে থেকেই আমি এপিলেপসি বা মৃগী রোগে আক্রান্ত রোগীদের খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাইনরাল বিটস (binaural beats) ব্যবহার করার সম্ভাবনা নিয়ে কৌতুহলী ছিলাম। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এই ধরনের বিষয় নিয়ে গবেষণা করার একমাত্র উপায় হলো মাস্টার্স বা পিএইচডি করা, যাতে হাসপাতালের পরিবেশে EEG যন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু আমার পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার খুব একটা ইচ্ছে ছিল না। তাই যখন আমি Emotiv-এর সন্ধান পাই, তখন এই নতুন প্রযুক্তির বিপুল সম্ভাবনা দেখে আমি রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম। যদিও আমি এখনও মৃগী রোগের খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে বাইনরাল বিটস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ পাইনি, তবুও ফ্যাশন টেকনোলজি এবং মিউজিকের দুনিয়ায় Emotiv-এর EEG হেডসেট ব্যবহার করে আরও বেশি সৃজনশীল কাজ করতে পেরে আমি দারুণ উপভোগ করেছি।

আইকনিক 'TONTO' সিন্থেসাইজার ব্যবহার করার সময় প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আপনি একটি BCI ডিভাইস (Emotiv-এর Epoc X হেডসেট) ব্যবহার করেছিলেন। শুধুমাত্র মনের শক্তি দিয়ে TONTO থেকে উৎপন্ন হওয়া সঙ্গীত নিয়ন্ত্রণ করতে পারাটা কেমন অনুভূতি ছিল?

এটি ছিল এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি! সত্যি বলতে, TONTO-র সাথে আমাদের প্রথম অফিসিয়াল পরীক্ষার দিন পর্যন্ত মনে একটি সংশয় কাজ করছিল। আমাদের ইঞ্জিনিয়ার মিচেল ক্ল্যাক্সটন ভ্যাঙ্কুভারে একটি ছোট অ্যানালগ সিন্থেসাইজারের সাহায্যে এই প্রযুক্তির ওপর কাজ করছিলেন। অন্যদিকে, আমার মিউজিক প্রডিউসার এবং আমি ক্যালগারিতে বসে গানের প্রাথমিক ডেমোগুলো তৈরি করছিলাম। আমরা স্টুডিও বেলের টেকনিশিয়ানদের সাথে রেকর্ডিং প্রক্রিয়ার আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছিলাম, যেখানে TONTO-টিকে রাখা আছে।

BCI এবং মিউজিকের মেলবন্ধনে পপস্টার অ্যাঞ্জি সি – Emotiv-এর Epoc X হেডসেট এবং আইকনিক TONTO সিন্থেসাইজার হলো একদম উপযুক্ত জুটি।

আমরা যখন অবশেষে পরীক্ষার দিন স্টুডিও বেলে সবাই জড়ো হলাম, সেটিই ছিল আমাদের এবং TONTO-র প্রথম একত্রিত হওয়া। সেটআপের সময় আমরা সবাই একপ্রকার দম বন্ধ করে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু যখন TONTO থেকে মস্তিষ্কের তরঙ্গ বা ব্রেনওয়েভ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত প্রথম কয়েকটি সুর বের হয়ে এলো, আমার মনে আছে মিচেল বাতাসে হাত ছুঁড়ে আনন্দে চিৎকার করে উঠেছিল, "এটি কাজ করছে! এটি সত্যিই কাজ করছে!" সেটি আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি মুহূর্ত ছিল।

“TONTO, BCI এবং সঙ্গীত – অনুভূতিটি ছিল সত্যিই অবিশ্বাস্য।”

শুধুমাত্র মন দিয়ে TONTO নিয়ন্ত্রণ করার অনুভূতির কথা বলতে গেলে, এটি খুবই আকর্ষণীয় ছিল। আমাকে সঙ্গীতের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতে হতো এবং একই সাথে আমি কী ভাবছিলাম তা চিহ্নিত করতে হতো। এরপর, শব্দের মধ্যে পরিবর্তন আনার জন্য সেই নির্দিষ্ট ভাবনাগুলোর ওপর মনঃসংযোগ করার অনুশীলন করতে হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, আমার শরীরের মধ্য দিয়ে একটি বেগুনি রঙের শিখা নেমে আসছে এমন কল্পনা করে আমি TONTO-র লো-ফ্রিকোয়েন্সি অসিলেটর (LFO)-এর গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম। অপরদিকে, আমার বান্ধবী জেন ছায়াপথের মধ্য দিয়ে উড়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করে রেজোনেন্স এবং কাটঅফের মতো বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছিল। যারা এই হেডসেটটি ব্যবহার করে দেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের মানসিক সংকেত বা থট কিউ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। আমার মনে হয় এটি ব্যবহারকারীর জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে, কারণ এটি তাঁদের নিজস্ব মস্তিস্কের তরঙ্গের প্যাটার্নের ওপর ভিত্তি করে অনন্য উপায়ে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত সঙ্গীত তৈরির সুযোগ দেবে।

সঙ্গীত তৈরির জন্য BCI ডিভাইস ব্যবহার করে করা আপনার TONTO রেকর্ডিংটি বেশ ভালো প্রচার পেয়েছিল। সঙ্গীত জগতের ভেতরের মহলে এর প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

এখনও পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে, বিশেষ করে মেকার (Maker) এবং সিন্থ (Synth) কমিউনিটিতে। এই বছরের মেকার মিউজিক ফেস্টিভ্যালে এটি বেশ সমাদৃত হয়েছে এবং মেকার ফেয়ার শেনঝেন (Maker Faire Shenzhen) দ্বারা বিশেষভাবে প্রদর্শিত হয়েছে। আমার এই অ্যালবামের মুক্তির সাথে সাথে এর প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমি আশা করি। এতে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত TONTO-র সমস্ত সুর মিশ্রিত রয়েছে। আমি আশা করি যে এটি বিশ্বের অন্যান্য মানুষ এবং শিল্পীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের নতুন পথ খুঁজে পেতে অনুপ্রাণিত করবে। এবং অবশ্যই, এটি নিউরোসায়েন্স ও নিউরোটেকনোলজির ক্রমবর্ধমান ক্ষেত্রটিকে মানুষের সামনে তুলে ধরবে বলে আমি আশাবাদী। আমরা অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এক সময়ে বাস করছি!

সঙ্গীতের সাথে নিউরোটেকনোলজিকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে কিছুটা আপত্তি বা বাধা সবসময়ই ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে আপনার কী বলার আছে?

এটি একটি দারুণ প্রশ্ন। আমার মনে হয় যেহেতু এটি এখনও একটি সম্পূর্ণ নতুন ধারণা, তাই এটিকে বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হতে হয়; বিশেষ করে মানুষের মনে যখন মাইন্ড-কন্ট্রোল বা অন্য কেউ তাঁদের চিন্তাভাবনা জেনে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে একটি অস্বস্তি বা শঙ্কা কাজ করে। আমার মনে আছে, যখন আমি আমার ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত এলইডি পোশাক (যা Musethereal নামে পরিচিত) প্রদর্শন করছিলাম, তখন অনেকের মনেই একটা ভয় কাজ করছিল যে কেউ হয়তো তাদের মনের কথা জেনে যেতে পারবে। কিন্তু ইইজি (EEG) প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। আমরা অবশ্যই EEG প্রযুক্তির সাহায্যে মস্তিস্কের বৈদ্যুতিক ক্রিয়াকলাপের প্যাটার্ন দেখতে পারি, তবে এর মাধ্যমে কারও মনে কী চলছে বা মাইন্ড রিড করা সম্ভব নয়।

“নিউরোটেক, BCI এবং সঙ্গীতের এই যৌথ মেলবন্ধনের বহুবিধ উপযোগিতা রয়েছে।”

সঙ্গীতের সাথে নিউরোটেকনোলজিকে যুক্ত করার কথা বলতে গেলে, এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয়, বিশেষ করে এমন একজন মানুষের জন্য যিনি শারীরিকভাবে অক্ষম এবং কোনো প্রচলিত বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারেন না। এটি অবশ্যই তাঁদের জন্য অনেক নতুন পথ উন্মুক্ত করবে এবং এই নতুন মাধ্যমের সাহায্যে নিজেদের প্রকাশ ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে তাঁদের জীবনে আরও অনেক আনন্দ নিয়ে আসবে।

আমার মনে হয় এটি মিউজিক প্রডিউসারদের জন্যও দারুণ এক সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে। প্রায় ১০ বছর আগে, একটি রেভ পার্টিতে যাওয়ার পর, সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার মাথায় একটি অসাধারণ ট্র্যান্স ট্র্যাকের সুর আসছিল, কিন্তু প্রচুর সময় এবং শক্তি ব্যয় করে মিউজিক প্রোডাকশন করা ছাড়া এটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কোনো উপায় আমার কাছে ছিল না। সেদিনই পরে আমি আমার কয়েকজন ডিজে প্রডিউসার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় মজা করে বলেছিলাম, "আমি সেই দিনটির অপেক্ষায় আছি যেদিন আমরা আক্ষরিক অর্থেই শুধু চিন্তা করেই সুর তৈরি করতে পারব।" তখন আমি কেবল কৌতুক করেই কথাটা বলেছিলাম, তবে এখন যখন আমি নিজেই ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত সঙ্গীত তৈরি করছি, আমার মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে "চিন্তার মাধ্যমে সঙ্গীত সৃষ্টি করা" একটি বহুল প্রচলিত ও স্বীকৃত উপায়ে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

সঙ্গীত এবং নিউরোটেকনোলজির পারস্পরিক সম্পর্কের নিরিখে আপনি এর ভবিষ্যৎ কোথায় দেখছেন?

ভবিষ্যতে, আমি এমন দৃশ্য কল্পনা করি যেখানে মানুষ মাথায় একটি ব্রেনওয়েভ হেডসেট বা BCI ডিভাইস পরে কম্পিউটারের সামনে বসবে এবং এটিকে চমৎকার সঙ্গীত তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। আমার মনে হয় নিউরোটেকনোলজি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) যেভাবে এগিয়ে চলেছে, সঙ্গীতের সুর বা শব্দের জন্য প্রেডিক্টিভ অ্যালগরিদম তৈরি করতে এদের পরস্পরের মেলবন্ধন ঘটতেই থাকবে।

BCI devices, like the ones produced by EMOTIV, are helping in creating a unique genre of music

অ্যাঞ্জি সি বিশ্বাস করেন যে সঙ্গীতের ভবিষ্যৎ লুকিয়ে রয়েছে BCI এবং নিউরোটেকনোলজির মাঝে।

উদাহরণস্বরূপ, আমরা যদি রেডিওলজি ক্ষেত্রের দিকে তাকাই, তবে দেখব যে মানুষের চোখের চেয়েও এআই অত্যন্ত নিখুঁত ও দ্রুত স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করতে পারে। এই দক্ষতাকে যদি আমরা সঙ্গীত এবং নিউরোটেকনোলজির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করি, তবে এটি যুক্তিযুক্ত যে কোনো একদিন মানুষ কেবল একটি স্নেয়ার ড্রামের কথা মনে মনে ভাববে, আর এআই সেই নির্দিষ্ট ব্রেনওয়েভ প্যাটার্নটিকে শনাক্ত করে বুঝে নেবে, "আরে, এটি তো স্নেয়ার ড্রামের সুর!", এবং তারপর লজিক প্রো (Logic Pro), প্রো টুলস (ProTools) ইত্যাদির মতো ডিজিটাল অডিও ওয়ার্কস্টেশনকে (DAW) স্নেয়ার ড্রামের জন্য একটি MIDI প্যাটার্ন তৈরি করার নির্দেশ দেবে। শুনতে অসম্ভব মনে হলেও, আমার বিশ্বাস আগামী ৫-১০ বছরের মধ্যে এটি করা সম্ভব হবে।

নিউরোটেক এবং সঙ্গীতে BCI ডিভাইসের ব্যবহার বহুলাংশে ফলপ্রসূ হতে পারে, বিশেষ করে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের জন্য। বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের গান তৈরি ও শোনার চিরাচরিত পদ্ধতিতে বিসিআই ডিভাইস বা এই প্রযুক্তি কীভাবে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে, সে সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

আমার মনে হয় নিউরোটেক এবং BCI ডিভাইসের ব্যবহার বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য নতুন সম্ভাবনার বহু দুয়ার খুলে দেবে। প্রকৃতপক্ষে, এটি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। কানাডার আলবার্টার ক্যালগারির একজন পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিস্ট ড. অ্যাডাম কার্টন BCI4Kids নামে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাঁরা বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করতে এবং এই প্রযুক্তিগুলিকে কীভাবে ব্যবহার করে সেই শিশুদের এবং তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা যায় তা নিয়ে গবেষণা করছেন। জন নামে একটি ছোট ছেলে কেবল তার চিন্তাভাবনা ব্যবহার করে সুন্দর সুন্দর ছবি তৈরি করার জন্য BCI ব্যবহার করছে – এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য! আপনি যদি তার তৈরি কিছু শিল্পকর্ম দেখতে চান তবে তার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল @brainpaintbyjohn দেখতে পারেন।

আমি ড. কার্টন এবং তাঁর দলের সাথে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত সঙ্গীতের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছি। BCI4Kids-এর সাথে আমরা কী তৈরি করতে পারি তা দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

সঙ্গীত সৃষ্টির জন্য একটি BCI ডিভাইস ব্যবহারের সুবিধাগুলি কী কী? এটি চিরাচরিত পদ্ধতির থেকে কীভাবে আলাদা?

আমার মনে হয় একটি BCI ডিভাইস দিয়ে সঙ্গীত তৈরির মূল সুবিধা হলো এটি কোনো শারীরিক বাদ্যযন্ত্র বাজানোর প্রয়োজনীয়তা দূর করে। মানব মস্তিষ্ক এক অপার মহিমায় উজ্জ্বল এবং আমাদের চিন্তাভাবনার গতিতে আমরা কল্পনার অনেক দূর পর্যন্ত পরিভ্রমণ করতে পারি। আমার সত্যিই মনে হয় BCI প্রযুক্তি সঙ্গীতের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের চাবিকাঠি হতে চলেছে। আমার প্রডিউসার ট্রে মিলস এবং আমি দুজনেই একমত যে একটি BCI হেডসেট ব্যবহার করে আমরা এখনও পর্যন্ত সঙ্গীতের সবচেয়ে জাদুকরী মুহূর্তগুলির অভিজ্ঞতা লাভ করেছি।

আপনি কি মনে করেন এই পদ্ধতিটি আগামী দিনে পুরো সঙ্গীত জগতকে নিজের দখলে নিয়ে নেবে?

আমার মনে হয়, একটা সময় আসবে যখন সঙ্গীত তৈরির জন্য BCI ডিভাইস ব্যবহার করা একটি সাধারণ অভ্যাস হয়ে উঠবে। প্রযুক্তি ক্রমাগত বিবর্তিত হচ্ছে এবং পুরনো সংস্করণগুলির চেয়ে আরও উন্নত হচ্ছে। ভাবলেই অবাক লাগে যে বাজারে প্রথম পার্সোনাল কম্পিউটার আসার পর মাত্র ৪০-৫০ বছর কেটেছে। আর আজ আমাদের কাছে এমন স্মার্টফোন রয়েছে যা আমরা আক্ষরিক অর্থেই আমাদের পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াই – এটি সত্যিই অসাধারণ। আমি বিশ্বাস করি যে একবার BCI প্রযুক্তি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এবং নিউরোটেকনোলজি, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও এআই-এর পারস্পরিক মেলবন্ধন আরও গভীর হলে এই সঙ্গীত সৃষ্টির পদ্ধতিটি যে সঙ্গীত জগতের একটি মূল স্তম্ভ হয়ে উঠবে, সে বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।

২০১৬ সালে মেকফ্যাশন ওয়্যারেবল টেকনোলজি গালা-তে যখন আপনার ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত এলইডি পোশাকটি প্রদর্শিত হয়েছিল, তখন আপনি এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। বিগত পাঁচ বছরে নিউরোটেকনোলজি কতটা এগিয়েছে বলে আপনি মনে করেন? আর বিজ্ঞানের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে আপনার ধারণা কী? সঙ্গীতের ক্ষেত্রে এবং আরও বৃহত্তর অর্থে আপনার অভিমত কী?

হা হা, চমৎকার রসিকতা 🙂 আমাকে বলতেই হবে যে গত ৫ বছরে নিউরোটেকনোলজি যেভাবে এগিয়েছে তা দেখে আমি সত্যি মুগ্ধ। আমি মূলত ২০১৬ সালে Emotiv EPOC+ ব্রেনওয়েভ হেডসেট নিয়ে কাজ শুরু করি। সেই সময়ে, Emotiv-এর কিছু সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের ইন্টিগ্রেশন অন্যদের তুলনায় বেশি উন্নত ছিল। ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত এলইডি পোশাকটির নকশা করার সময় আমাদের যে বিষয়টিকে মাথায় রাখতে হয়েছিল তা হলো আমাদের এমন একটি কম্পিউটার প্রসেসিং সিস্টেমের প্রয়োজন ছিল যা সহজে বহনযোগ্য বা পোর্টেবল হতে পারে।

Emotiv-এর ডেস্কটপ সফটওয়্যার প্রোগ্রামটি বেশ সমৃদ্ধ ছিল, কিন্তু র‍্যাম্পে হাঁটার সময় ব্যাকপ্যাকে ল্যাপটপ বহন করা ফ্যাশনের সাথে মোটেও মানানসই নয়। তাই, তার পরিবর্তে আমাদের ইঞ্জিনিয়ার একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য অ্যাপ তৈরি করেছিলেন যা EPOC+ হেডসেট থেকে ডাটা প্রসেস করতে পারত এবং সেটিকে একটি মাইক্রোকন্ট্রোলারে পাঠাতে পারত যা পোশাকের এলইডি লাইটগুলোর সাথে যুক্ত ছিল। মাইক্রোকন্ট্রোলার এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোন দুটিই পোশাকের পিছনের একটি পকেটে সহজেই লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছিল।

Angie C truly believe science and music go hand in hand

২০১৬ সালে মেকফ্যাশন ওয়্যারেবল টেকনোলজি গালা-তে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত এলইডি পোশাকটি (একটি BCI ডিভাইসের সাহায্যে) প্রদর্শন করা হয়েছিল।

“Emotiv-এর Epoc X সত্যিই অত্যন্ত আকর্ষণীয় দেখতে।”

আর আজকের দিনে দাঁড়িয়ে – Emotiv-এর বিভিন্ন প্রোডাক্ট এবং সফটওয়্যার কোম্পানিটিকে নিউরোটেকনোলজির বাজারে শীর্ষস্থানে নিয়ে এসেছে। আমি নিজেই সম্প্রতি নতুন Epoc X হেডসেটটি অর্ডার করেছি, এবং এটি নিয়ে নতুন কাজ শুরু করতে আমি তর সইছে না!

বিজ্ঞানের এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ এই শাখার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা বলতে গেলে, আমার মনে হয় আমরা কেবল সম্ভাবনার উপরিভাগ স্পর্শ করেছি, ভবিষ্যতে আরও কত কী যে সম্ভব হবে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। ২০০২ সালে যখন ডালহৌসি ইউনিভার্সিটিতে (Dalhousie University) নিউরোসায়েন্সের ক্লাস শুরু করি, তখন নিউরোসায়েন্সের ক্ষেত্রটি কতটা নতুন এবং তুলনামূলকভাবে কতটা অনাবিষ্কৃত ছিল তা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। বিজ্ঞান ও চিকিৎসার অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা যেখানে এত প্রভূত উন্নতি করেছি, সেখানে মানব মস্তিস্ক নিয়ে গবেষণায় আমরা কেন একই রকম শক্তি ও আগ্রহ প্রকাশ করিনি তা আমার কাছে সত্যিই এক বড় বিস্ময় ছিল।

“নিউরোটেকের মাধ্যমে মনের গহীনে অনুসন্ধান।”

অনেকেরই মনে হতে পারে যে এটিই সবচেয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ছিল, কারণ মস্তিস্কই আমাদের প্রকৃত অর্থে সাধারণ থেকে অনন্য মানুষ করে তোলে। কিন্তু কোনো কারণে, হয়তো এর জটিল গঠনের কারণে, মস্তিষ্ক এবং আমাদের মন কীভাবে কাজ করে তা বোঝার পথে আমরা কেবল যাত্রা শুরু করেছি। BCI ডিভাইসগুলি অবশ্যই এই ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করেছে। আমি মনে করি যে নিউরোটেকনোলজিক্যাল ডিভাইসের সাহায্যে মানব মনকে জানার মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের এবং এই জীবনকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সক্ষম হব। নিজের চিন্তাভাবনাকে আরও উন্নত করতে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাকে কীভাবে "হ্যাক" করা যায় তা শিখতে পারাটা আমাদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

আপনার গানের কোন দিকগুলিতে BCI ডিভাইসের ছোঁয়া রয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো শ্রোতাকে সংক্ষেপে কিছু বলবেন? এবং আপনি কীভাবে এই ধরনের সঙ্গীত সৃষ্টি করেন?

আমার অ্যালবামের প্রতিটি গানে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত TONTO-র একটি বিশেষ ছোঁয়া রয়েছে। যেহেতু আমাদের কাছে রেকর্ডিংয়ের জন্য মাত্র দুই দিন সময় ছিল, তাই প্রতিটি গানে কোন বিষয়ের ওপর বেশি ফোকাস করব তার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের নামতে হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, অ্যালবামের প্রথম গান 'ম্যাগনাম চেরি' (Magnum Cherry)-তে গানের শেষ অংশে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত TONTO লিড সিন্থ সুর রয়েছে, যেখানে 'ওয়ার্ল্ডস অ্যাওয়ে' (Worlds Away)-তে একটি "ব্রেনওয়েভ সোলো" মাঝের অংশে রয়েছে যা শুনলে মনে হয় যেন কোনো মহাকাশযান আকাশে উড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও অ্যালবামের অন্যান্য কয়েকটি গানেও আমরা ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত পিয়ানো এবং বাইনরাল বিটস নিয়ে কাজ করেছি।

একটি BCI ডিভাইস দিয়ে সঙ্গীত তৈরির এই পদ্ধতিটি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

“আমি মনে মনে একটি বেগুনি রঙের শিখা কল্পনা করেছিলাম।”

কাজের প্রক্রিয়াটির কথা বলতে গেলে, আমরা TONTO থেকে আসা শব্দ নিয়ন্ত্রণ করতে Emotiv-এর ইমোশনাল স্টেট অ্যালগরিদম ব্যবহার করেছিলাম। আমাদের ইঞ্জিনিয়ার একটি থার্ড-পার্টি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন যা হেডসেট পরিহিত ব্যক্তির মানসিক আবেগ ক্ষণে ক্ষণে কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে (যেমন চাপ, সম্পৃক্ততা, উত্তেজনা) তা আমাদের দেখতে সাহায্য করত। এরপর তিনি সেই সূচকগুলোকে ব্যবহার করে তাঁর তৈরি একটি বিশেষ ডিভাইস "ব্রেন বক্স" (Brain Box)-এর মাধ্যমে TONTO-তে নিয়ন্ত্রণ ভোল্টেজ বা কন্ট্রোল ভোল্টেজ সিগন্যাল পাঠাতেন।

হেডসেট পরিহিত ব্যক্তির ওপর দায়িত্ব থাকত এটি নির্ধারণ করা যে কোন ধরনের চিন্তাভাবনা TONTO থেকে আসা মূল শব্দ বা সুরে পরিবর্তন আনছে। আমার ক্ষেত্রে, যেমন মনে মনে নিঃশব্দে "কেন" প্রশ্নটি করা, অথবা আমার শরীরের মধ্য দিয়ে একটি বেগুনি রঙের শিখা নেমে আসার কল্পনা করা – এই বিষয়গুলো আমাকে পিচ, এলএফও রেট এবং কাটঅফের মতো দিকগুলো সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করেছিল। এটি অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক এবং আনন্দদায়ক এক অভিজ্ঞতা ছিল।

নিউরোটেকনোলজি এবং নিউরো রিসার্চকে আরও ব্যাপক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য Emotiv এর মতো কোম্পানিগুলির প্রচেষ্টাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

আমার মনে হয় Emotiv-এর মতো কোম্পানিগুলি মস্তিষ্ক এবং নিউরো গবেষণার ক্ষেত্রটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এক অসামান্য অবদান রাখছে। সঙ্গীত ও সৃজনশীল ক্ষেত্রে নিউরোটেকনোলজির প্রয়োগের পাশাপাশি, ক্রাউড-সোর্সড নিউরোলজিক্যাল রিসার্চের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি সাধিত হতে চলেছে তা নিয়েও আমি সমানভাবে আশাবাদী। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে আমি দেখেছি যে প্রথাগত বা চিরাচরিত গবেষণা অত্যন্ত ধীরগতিতে চলে এবং অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ও ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। Emotiv যে রিসার্চ-গ্রেড হেডসেটগুলি তৈরি করেছে তা প্রথাগত ইইজি (EEG) গবেষণার সাথে জড়িত অনেক বাঁধাকেই দূর করে দেয়। অংশগ্রহণকারীদের কোনো স্থানীয় হাসপাতালের মতো জায়গায় না গিয়েও, তাঁরা এখন কেবল তাঁদের ব্রেনওয়েভ হেডসেট পরে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে যেকোনো মস্তিষ্কের গবেষণামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে ইন্সট্যান্টলি অংশ নিতে পারেন। আমার মতে, এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দুনিয়ায় অত্যন্ত চমৎকার এক বাস্তব সত্য।

আপনি Emotiv-এর বৈপ্লবিক হেডসেট ব্যবহার করে কিছু মনে রাখার মতো অসাধারণ গান তৈরি করেছেন। এই প্রযুক্তি এবং আপনার মতো শিল্পীদের জন্য এর গুরুত্ব কেমন, সে সম্পর্কে কিছু বলুন?

Emotiv-এর BCI হেডসেট সৃজনশীল হওয়ার এক সম্পূর্ণ নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। শিল্পী হিসেবে আমাদের অন্বেষণ করার মতো অনেক কিছুই রয়েছে এবং আমি অন্যান্য শিল্পীদের সঙ্গীত ও শিল্প তৈরির এই নতুন পদ্ধতিটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য উৎসাহিত করব। এটি দিয়ে নিজের সৃষ্টিশীলতাকে নতুন রূপ দিন!

অ্যাঞ্জি সি-এর নতুন অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও – Worlds Away.

আপনার বহুল প্রত্যাশিত অ্যালবাম “স্টার সিডস্” (Star Seeds) ২৬শে নভেম্বর, শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে? শ্রোতারা এই অ্যালবাম থেকে কী আশা করতে পারেন?

২৬শে নভেম্বর আমার অ্যালবামটি মুক্তি পাওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই অ্যালবামটি শ্রোতাদের মনের গভীর অন্ধকার ও বিষাদময় পরিবেশ থেকে মুক্তি ও স্বাধীনতার এক ভিন্ন মহাজাগতিক সফরে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। আমি আমার গানের কথায় দ্ব্যর্থবোধক শব্দের খেলা রাখতে ভালোবাসি, তাই প্রতিটি লাইনের গভীরে অনেক গুপ্ত বার্তা এবং ভিন্ন অর্থ লুকিয়ে রয়েছে। আমি রুমি-র মতো মহান লেখক ও দার্শনিকদের অনেক বড় ভক্ত, যাঁর লেখা মাত্র অল্প কয়েকটি কথাতেই প্রকাশ পায় অসীম জ্ঞান; আপনার মনকে যদি একটু ঘুরে বেড়াতে দেন, তবে তা গভীর ভাবনায় মগ্ন হতে সাহায্য করে। এই অ্যালবামে আমি সেই অনুভূতিকেই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

সোনিকেলি বা শব্দের দিক থেকে বিচার করলে, আমি এই অ্যালবামটিকে ইলেক্ট্রো-পপ হিসেবে চিহ্নিত করব, তবে আমরা এতে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত পিয়ানোর মতো বেশ কিছু মজার জিনিস যুক্ত করেছি। যে ঘরে TONTO ছিল, সেখানেই ১৯০০ সালের একটি 'জন ব্রডউড অ্যাকোস্টিক গ্র্যান্ড পিয়ানো' (John Broadwood Acoustic Grand Piano) ছিল, তাই আমরা পিয়ানোটি রেকর্ড করার সিদ্ধান্ত নিই। এবং তারপর সেই শব্দটিকে TONTO-র ফিল্টারের মধ্য দিয়ে চালনা করে আমাদের মস্তিস্কের তরঙ্গের সাহায্যে সুরটিকে পছন্দমতো সাজিয়ে নিই। এটি অত্যন্ত পরীক্ষামূলক একটি কাজ ছিল, যার ফলস্বরূপ আমরা একটি আকর্ষণীয় রেকর্ডিং পেয়েছি এবং সাথে একটি চমৎকার ব্যাকস্টোরিও রয়েছে।

আপনি কি আপনার স্বভাবসুলভ ঘরানার শৈলী বজায় রেখেছেন? নাকি “স্টার সিডস্”-এ শ্রোতাদের জন্য আরও অনেক চমক ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা অপেক্ষা করছে?

জানেন কি, আমার মনে হয় আমি অবশেষে আমার সুরের প্রকৃত শৈলী খুঁজে পেয়েছি এই "স্টার সিডস্" অ্যালবামের মাধ্যমে। বেশ কয়েক বছর ধরে আমি হয় সিঙ্গার-সংরাইটার মেজাজে গান লিখছিলাম ও রেকর্ড করছিলাম, অথবা ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিকের জন্য ভোকাল দিচ্ছিলাম। এই অ্যালবামটি তৈরি করা আমাকে সেই দুটি শৈলীর এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটাতে সাহায্য করেছে যার ফলে এমন একটি সুর তৈরি হয়েছে যা সত্যি অনন্য শোনাচ্ছে এবং এর জন্য আমার প্রডিউসার ট্রে মিলস-কে ধন্যবাদ জানাতেই হয়। কোনো শিল্পী নিজের সুর বা স্টাইল কীভাবে বেছে নেবেন সে বিষয়ে তিনি অসামান্য গাইডেন্স দিতে পারেন। এটি কেবল তাঁদের সঙ্গীতের ধরনের ওপর নির্ভর করে না, বরং একজন মানুষ হিসেবে তাঁরা কেমন, তাও ফুটিয়ে তোলে।

সঙ্গীত তৈরি করতে কেবল মন বা মগজকে ব্যবহার করা। অনেকের কাছেই এটি কিছুটা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু, সঙ্গীতশিল্পী এবং পপতারকা অ্যাঞ্জি সি ঠিক এই পথটিই বেছে নিয়েছেন। সঙ্গীত এবং বিজ্ঞানের একনিষ্ঠ প্রেমী – অ্যাঞ্জি কুম্বস (যিনি অ্যাঞ্জি সি নামেও পরিচিত) তাঁর দুটি ভালোবাসাকে একত্রিত করে সত্যিই অনন্য কিছু সৃষ্টির সেরা উপায় খুঁজে পেয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর লেটেস্ট অ্যালবাম "স্টার সিডস্" (Star Seeds) প্রকাশের পাশাপাশি, অ্যাঞ্জি সি Emotiv-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় সঙ্গীত এবং ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI) ডিভাইস ব্যবহার করে এমন এক বিশেষ ঘরানার সঙ্গীত ও শব্দশৈলী তৈরির বিষয়ে কথা বলেছেন, যা তাঁর বিশ্বাসে ভবিষ্যতের রূপরেখা হতে পারে।

সঙ্গীতের প্রতি আপনার এই ভালোবাসা, আপনার কী মনে হয় এটি কোথা থেকে এসেছে?

সঙ্গীতের প্রতি আমার ভালোবাসা সেই ছোট্টবেলা থেকে শুরু। আমার বয়স তখন মাত্র ৩ বছর, যখন মা আমাকে গানের ক্লাসে ভর্তি করিয়ে দেন। আমার মনে আছে, আমি ঘন্টার পর ঘন্টা পিয়ানো বাজাতাম এবং নিজের গান ও সুর লিখতে ভালোবাসতাম। আমার বাবা-মা দুজনেই সঙ্গীতমনা ছিলেন – মা ছিলেন একজন গায়িকা এবং বাবা গিটার বাজাতেন।

শৈশবের এমন কোনো মুহূর্তের কথা কি মনে পড়ে, যখন কোনো নিখুঁত সঙ্গীত শোনার পর আপনার মস্তিস্ক ক্রিসমাস ট্রির মতো আনন্দে ঝলমল করে উঠেছিল?

অবশ্যই, যখন আমি প্রথমবার বিথোভেনের 'মুনলাইট সোনাটা' (Moonlight Sonata) শুনেছিলাম। তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর, এবং আমি আমার পিয়ানো শিক্ষকের কাছে এটি বাজানো শেখার জন্য জেদ ধরেছিলাম। সঙ্গীতের সেই সুরটি আমার জীবন বদলে দিয়েছিল। যতবার আমি এটি বাজাই, এটি আমাকে সম্পূর্ণ অন্য এক জগতে নিয়ে যায়।

আপনার দুটি ভালোবাসা – সঙ্গীত ও বিজ্ঞান, এবং এগুলো সাধারণ মানুষের ধারণার চেয়েও কতটা গভীরভাবে সংযুক্ত, সে বিষয়ে কি একটু বিস্তারিত বলবেন?

সঙ্গীত এবং বিজ্ঞান যে সাধারণ মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি সংযুক্ত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। উদাহরণস্বরূপ, সঙ্গীতের ছন্দ এবং সঠিক সময়ের পরিমাপ শেখা শিশুদের জীবনের শুরুর দিকেই গাণিতিক দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করে বলে প্রমাণিত হয়েছে। আরেকটি মজার তথ্য হলো, সঙ্গীত একটি অত্যন্ত অনন্য বিষয় যা মানুষের পুরো মস্তিস্ককে সক্রিয় করে তোলে – কেবল বাম বা ডান গোলার্ধের কোনো একটিকে নয়। আমরা ঐতিহ্যগতভাবে বিজ্ঞান এবং সঙ্গীতকে সম্পূর্ণ আলাদা ও অসম্পর্কিত হিসেবে দেখে এসেছি। কিন্তু আমার কাছে এটি একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, এবং আমাদের সমাজে এর পরিবর্তন প্রয়োজন। শিক্ষাব্যবস্থা সঙ্গীত ও শিল্পকে প্রায় গুরুত্বহীন মনে করে। তবে আমার মতে, এগুলি মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কারণ এগুলি পুরো মস্তিষ্ককে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে সহায়তা করে।

Angie C is a pioneer in melding music with science, using BCI devices

অ্যাঞ্জি সি-এর বিজ্ঞান ও সঙ্গীতের মেলবন্ধন ঘটানোর প্রতি এক গভীর অনুরাগ রয়েছে।

আপনি একজন ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে, বিজ্ঞান ও সঙ্গীতের এত সফল মেলবন্ধন ঘটিয়ে, আপনি কি উভয় জগতের সেরা দিকগুলো উপভোগ করার পথ খুঁজে পেয়েছেন?

হ্যাঁ, একদম! সঙ্গীত এবং বিজ্ঞানকে মিলিয়ে ফেলা আমাকে প্রচুর আনন্দ দিয়েছে। এটি আমাকে অনেক ভিন্ন স্তরে গিয়ে গতানুগতিক চিন্তাভাবনার বাইরে গিয়ে ভাবতে অনুপ্রাণিত করে। সত্যি বলতে, যখনই আমি কোনো নতুন প্রজেক্ট শুরু করি, তখন একটি খাঁটি যুক্তিভিত্তিক বা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে শুরু করার চেয়ে বরং শৈল্পিক সৃজনশীল ভাবনাকে প্রথমে গুরুত্ব দিই। আমি প্রজেক্টের নকশার ছবি আঁকি, বা প্রজেক্টের অংশগুলো কীভাবে একসাথে কাজ করবে তার বিবরণ লিখে রাখি। মজার ব্যাপার হলো, প্রতিবার যখন আমি এটি করি, তখন এই সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ বা দক্ষতাসম্পন্ন মানুষেরা ম্যাজিকের মতো আমার জীবনে চলে আসেন। তাঁরা এই বিষয়ে আগ্রহ দেখান, এবং পরবর্তীতে আমরা একসাথে কাজ করে প্রজেক্টটিকে বাস্তবে রূপ দিই। এটি আসলে একটি চমৎকার প্রক্রিয়া, যা সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে আপাতদৃষ্টিতে দুটি ভিন্ন ক্ষেত্রকে একত্র করার সুযোগ করে দেয়।

সঙ্গীত তৈরি এবং পরিবেশনের জন্য BCI ডিভাইস ব্যবহারের অন্যতম পথপ্রদর্শক বা পাইওনিয়ার হতে কেমন লাগে?

এটি সত্যিই দারুণ এবং চরম রোমাঞ্চকর অনুভূতি! ২০১৪ সালের সেই দিনটির কথা আমার এখনও মনে আছে যখন আমি প্রথম Emotiv-এর ওয়েবসাইটটি দেখেছিলাম। আমি জানতে পারি যে কোম্পানিটি একটি পোর্টেবল EEG হেডসেট তৈরি করেছে। তার প্রায় ৬ মাস আগে থেকেই আমি এপিলেপসি বা মৃগী রোগে আক্রান্ত রোগীদের খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাইনরাল বিটস (binaural beats) ব্যবহার করার সম্ভাবনা নিয়ে কৌতুহলী ছিলাম। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এই ধরনের বিষয় নিয়ে গবেষণা করার একমাত্র উপায় হলো মাস্টার্স বা পিএইচডি করা, যাতে হাসপাতালের পরিবেশে EEG যন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু আমার পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার খুব একটা ইচ্ছে ছিল না। তাই যখন আমি Emotiv-এর সন্ধান পাই, তখন এই নতুন প্রযুক্তির বিপুল সম্ভাবনা দেখে আমি রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম। যদিও আমি এখনও মৃগী রোগের খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে বাইনরাল বিটস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ পাইনি, তবুও ফ্যাশন টেকনোলজি এবং মিউজিকের দুনিয়ায় Emotiv-এর EEG হেডসেট ব্যবহার করে আরও বেশি সৃজনশীল কাজ করতে পেরে আমি দারুণ উপভোগ করেছি।

আইকনিক 'TONTO' সিন্থেসাইজার ব্যবহার করার সময় প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আপনি একটি BCI ডিভাইস (Emotiv-এর Epoc X হেডসেট) ব্যবহার করেছিলেন। শুধুমাত্র মনের শক্তি দিয়ে TONTO থেকে উৎপন্ন হওয়া সঙ্গীত নিয়ন্ত্রণ করতে পারাটা কেমন অনুভূতি ছিল?

এটি ছিল এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি! সত্যি বলতে, TONTO-র সাথে আমাদের প্রথম অফিসিয়াল পরীক্ষার দিন পর্যন্ত মনে একটি সংশয় কাজ করছিল। আমাদের ইঞ্জিনিয়ার মিচেল ক্ল্যাক্সটন ভ্যাঙ্কুভারে একটি ছোট অ্যানালগ সিন্থেসাইজারের সাহায্যে এই প্রযুক্তির ওপর কাজ করছিলেন। অন্যদিকে, আমার মিউজিক প্রডিউসার এবং আমি ক্যালগারিতে বসে গানের প্রাথমিক ডেমোগুলো তৈরি করছিলাম। আমরা স্টুডিও বেলের টেকনিশিয়ানদের সাথে রেকর্ডিং প্রক্রিয়ার আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছিলাম, যেখানে TONTO-টিকে রাখা আছে।

BCI এবং মিউজিকের মেলবন্ধনে পপস্টার অ্যাঞ্জি সি – Emotiv-এর Epoc X হেডসেট এবং আইকনিক TONTO সিন্থেসাইজার হলো একদম উপযুক্ত জুটি।

আমরা যখন অবশেষে পরীক্ষার দিন স্টুডিও বেলে সবাই জড়ো হলাম, সেটিই ছিল আমাদের এবং TONTO-র প্রথম একত্রিত হওয়া। সেটআপের সময় আমরা সবাই একপ্রকার দম বন্ধ করে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু যখন TONTO থেকে মস্তিষ্কের তরঙ্গ বা ব্রেনওয়েভ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত প্রথম কয়েকটি সুর বের হয়ে এলো, আমার মনে আছে মিচেল বাতাসে হাত ছুঁড়ে আনন্দে চিৎকার করে উঠেছিল, "এটি কাজ করছে! এটি সত্যিই কাজ করছে!" সেটি আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি মুহূর্ত ছিল।

“TONTO, BCI এবং সঙ্গীত – অনুভূতিটি ছিল সত্যিই অবিশ্বাস্য।”

শুধুমাত্র মন দিয়ে TONTO নিয়ন্ত্রণ করার অনুভূতির কথা বলতে গেলে, এটি খুবই আকর্ষণীয় ছিল। আমাকে সঙ্গীতের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতে হতো এবং একই সাথে আমি কী ভাবছিলাম তা চিহ্নিত করতে হতো। এরপর, শব্দের মধ্যে পরিবর্তন আনার জন্য সেই নির্দিষ্ট ভাবনাগুলোর ওপর মনঃসংযোগ করার অনুশীলন করতে হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, আমার শরীরের মধ্য দিয়ে একটি বেগুনি রঙের শিখা নেমে আসছে এমন কল্পনা করে আমি TONTO-র লো-ফ্রিকোয়েন্সি অসিলেটর (LFO)-এর গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম। অপরদিকে, আমার বান্ধবী জেন ছায়াপথের মধ্য দিয়ে উড়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করে রেজোনেন্স এবং কাটঅফের মতো বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছিল। যারা এই হেডসেটটি ব্যবহার করে দেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের মানসিক সংকেত বা থট কিউ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। আমার মনে হয় এটি ব্যবহারকারীর জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে, কারণ এটি তাঁদের নিজস্ব মস্তিস্কের তরঙ্গের প্যাটার্নের ওপর ভিত্তি করে অনন্য উপায়ে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত সঙ্গীত তৈরির সুযোগ দেবে।

সঙ্গীত তৈরির জন্য BCI ডিভাইস ব্যবহার করে করা আপনার TONTO রেকর্ডিংটি বেশ ভালো প্রচার পেয়েছিল। সঙ্গীত জগতের ভেতরের মহলে এর প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

এখনও পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে, বিশেষ করে মেকার (Maker) এবং সিন্থ (Synth) কমিউনিটিতে। এই বছরের মেকার মিউজিক ফেস্টিভ্যালে এটি বেশ সমাদৃত হয়েছে এবং মেকার ফেয়ার শেনঝেন (Maker Faire Shenzhen) দ্বারা বিশেষভাবে প্রদর্শিত হয়েছে। আমার এই অ্যালবামের মুক্তির সাথে সাথে এর প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমি আশা করি। এতে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত TONTO-র সমস্ত সুর মিশ্রিত রয়েছে। আমি আশা করি যে এটি বিশ্বের অন্যান্য মানুষ এবং শিল্পীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের নতুন পথ খুঁজে পেতে অনুপ্রাণিত করবে। এবং অবশ্যই, এটি নিউরোসায়েন্স ও নিউরোটেকনোলজির ক্রমবর্ধমান ক্ষেত্রটিকে মানুষের সামনে তুলে ধরবে বলে আমি আশাবাদী। আমরা অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এক সময়ে বাস করছি!

সঙ্গীতের সাথে নিউরোটেকনোলজিকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে কিছুটা আপত্তি বা বাধা সবসময়ই ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে আপনার কী বলার আছে?

এটি একটি দারুণ প্রশ্ন। আমার মনে হয় যেহেতু এটি এখনও একটি সম্পূর্ণ নতুন ধারণা, তাই এটিকে বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হতে হয়; বিশেষ করে মানুষের মনে যখন মাইন্ড-কন্ট্রোল বা অন্য কেউ তাঁদের চিন্তাভাবনা জেনে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে একটি অস্বস্তি বা শঙ্কা কাজ করে। আমার মনে আছে, যখন আমি আমার ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত এলইডি পোশাক (যা Musethereal নামে পরিচিত) প্রদর্শন করছিলাম, তখন অনেকের মনেই একটা ভয় কাজ করছিল যে কেউ হয়তো তাদের মনের কথা জেনে যেতে পারবে। কিন্তু ইইজি (EEG) প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। আমরা অবশ্যই EEG প্রযুক্তির সাহায্যে মস্তিস্কের বৈদ্যুতিক ক্রিয়াকলাপের প্যাটার্ন দেখতে পারি, তবে এর মাধ্যমে কারও মনে কী চলছে বা মাইন্ড রিড করা সম্ভব নয়।

“নিউরোটেক, BCI এবং সঙ্গীতের এই যৌথ মেলবন্ধনের বহুবিধ উপযোগিতা রয়েছে।”

সঙ্গীতের সাথে নিউরোটেকনোলজিকে যুক্ত করার কথা বলতে গেলে, এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয়, বিশেষ করে এমন একজন মানুষের জন্য যিনি শারীরিকভাবে অক্ষম এবং কোনো প্রচলিত বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারেন না। এটি অবশ্যই তাঁদের জন্য অনেক নতুন পথ উন্মুক্ত করবে এবং এই নতুন মাধ্যমের সাহায্যে নিজেদের প্রকাশ ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে তাঁদের জীবনে আরও অনেক আনন্দ নিয়ে আসবে।

আমার মনে হয় এটি মিউজিক প্রডিউসারদের জন্যও দারুণ এক সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে। প্রায় ১০ বছর আগে, একটি রেভ পার্টিতে যাওয়ার পর, সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার মাথায় একটি অসাধারণ ট্র্যান্স ট্র্যাকের সুর আসছিল, কিন্তু প্রচুর সময় এবং শক্তি ব্যয় করে মিউজিক প্রোডাকশন করা ছাড়া এটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কোনো উপায় আমার কাছে ছিল না। সেদিনই পরে আমি আমার কয়েকজন ডিজে প্রডিউসার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় মজা করে বলেছিলাম, "আমি সেই দিনটির অপেক্ষায় আছি যেদিন আমরা আক্ষরিক অর্থেই শুধু চিন্তা করেই সুর তৈরি করতে পারব।" তখন আমি কেবল কৌতুক করেই কথাটা বলেছিলাম, তবে এখন যখন আমি নিজেই ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত সঙ্গীত তৈরি করছি, আমার মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে "চিন্তার মাধ্যমে সঙ্গীত সৃষ্টি করা" একটি বহুল প্রচলিত ও স্বীকৃত উপায়ে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

সঙ্গীত এবং নিউরোটেকনোলজির পারস্পরিক সম্পর্কের নিরিখে আপনি এর ভবিষ্যৎ কোথায় দেখছেন?

ভবিষ্যতে, আমি এমন দৃশ্য কল্পনা করি যেখানে মানুষ মাথায় একটি ব্রেনওয়েভ হেডসেট বা BCI ডিভাইস পরে কম্পিউটারের সামনে বসবে এবং এটিকে চমৎকার সঙ্গীত তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। আমার মনে হয় নিউরোটেকনোলজি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) যেভাবে এগিয়ে চলেছে, সঙ্গীতের সুর বা শব্দের জন্য প্রেডিক্টিভ অ্যালগরিদম তৈরি করতে এদের পরস্পরের মেলবন্ধন ঘটতেই থাকবে।

BCI devices, like the ones produced by EMOTIV, are helping in creating a unique genre of music

অ্যাঞ্জি সি বিশ্বাস করেন যে সঙ্গীতের ভবিষ্যৎ লুকিয়ে রয়েছে BCI এবং নিউরোটেকনোলজির মাঝে।

উদাহরণস্বরূপ, আমরা যদি রেডিওলজি ক্ষেত্রের দিকে তাকাই, তবে দেখব যে মানুষের চোখের চেয়েও এআই অত্যন্ত নিখুঁত ও দ্রুত স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করতে পারে। এই দক্ষতাকে যদি আমরা সঙ্গীত এবং নিউরোটেকনোলজির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করি, তবে এটি যুক্তিযুক্ত যে কোনো একদিন মানুষ কেবল একটি স্নেয়ার ড্রামের কথা মনে মনে ভাববে, আর এআই সেই নির্দিষ্ট ব্রেনওয়েভ প্যাটার্নটিকে শনাক্ত করে বুঝে নেবে, "আরে, এটি তো স্নেয়ার ড্রামের সুর!", এবং তারপর লজিক প্রো (Logic Pro), প্রো টুলস (ProTools) ইত্যাদির মতো ডিজিটাল অডিও ওয়ার্কস্টেশনকে (DAW) স্নেয়ার ড্রামের জন্য একটি MIDI প্যাটার্ন তৈরি করার নির্দেশ দেবে। শুনতে অসম্ভব মনে হলেও, আমার বিশ্বাস আগামী ৫-১০ বছরের মধ্যে এটি করা সম্ভব হবে।

নিউরোটেক এবং সঙ্গীতে BCI ডিভাইসের ব্যবহার বহুলাংশে ফলপ্রসূ হতে পারে, বিশেষ করে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের জন্য। বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের গান তৈরি ও শোনার চিরাচরিত পদ্ধতিতে বিসিআই ডিভাইস বা এই প্রযুক্তি কীভাবে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে, সে সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

আমার মনে হয় নিউরোটেক এবং BCI ডিভাইসের ব্যবহার বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য নতুন সম্ভাবনার বহু দুয়ার খুলে দেবে। প্রকৃতপক্ষে, এটি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। কানাডার আলবার্টার ক্যালগারির একজন পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিস্ট ড. অ্যাডাম কার্টন BCI4Kids নামে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাঁরা বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করতে এবং এই প্রযুক্তিগুলিকে কীভাবে ব্যবহার করে সেই শিশুদের এবং তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা যায় তা নিয়ে গবেষণা করছেন। জন নামে একটি ছোট ছেলে কেবল তার চিন্তাভাবনা ব্যবহার করে সুন্দর সুন্দর ছবি তৈরি করার জন্য BCI ব্যবহার করছে – এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য! আপনি যদি তার তৈরি কিছু শিল্পকর্ম দেখতে চান তবে তার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল @brainpaintbyjohn দেখতে পারেন।

আমি ড. কার্টন এবং তাঁর দলের সাথে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত সঙ্গীতের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছি। BCI4Kids-এর সাথে আমরা কী তৈরি করতে পারি তা দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

সঙ্গীত সৃষ্টির জন্য একটি BCI ডিভাইস ব্যবহারের সুবিধাগুলি কী কী? এটি চিরাচরিত পদ্ধতির থেকে কীভাবে আলাদা?

আমার মনে হয় একটি BCI ডিভাইস দিয়ে সঙ্গীত তৈরির মূল সুবিধা হলো এটি কোনো শারীরিক বাদ্যযন্ত্র বাজানোর প্রয়োজনীয়তা দূর করে। মানব মস্তিষ্ক এক অপার মহিমায় উজ্জ্বল এবং আমাদের চিন্তাভাবনার গতিতে আমরা কল্পনার অনেক দূর পর্যন্ত পরিভ্রমণ করতে পারি। আমার সত্যিই মনে হয় BCI প্রযুক্তি সঙ্গীতের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের চাবিকাঠি হতে চলেছে। আমার প্রডিউসার ট্রে মিলস এবং আমি দুজনেই একমত যে একটি BCI হেডসেট ব্যবহার করে আমরা এখনও পর্যন্ত সঙ্গীতের সবচেয়ে জাদুকরী মুহূর্তগুলির অভিজ্ঞতা লাভ করেছি।

আপনি কি মনে করেন এই পদ্ধতিটি আগামী দিনে পুরো সঙ্গীত জগতকে নিজের দখলে নিয়ে নেবে?

আমার মনে হয়, একটা সময় আসবে যখন সঙ্গীত তৈরির জন্য BCI ডিভাইস ব্যবহার করা একটি সাধারণ অভ্যাস হয়ে উঠবে। প্রযুক্তি ক্রমাগত বিবর্তিত হচ্ছে এবং পুরনো সংস্করণগুলির চেয়ে আরও উন্নত হচ্ছে। ভাবলেই অবাক লাগে যে বাজারে প্রথম পার্সোনাল কম্পিউটার আসার পর মাত্র ৪০-৫০ বছর কেটেছে। আর আজ আমাদের কাছে এমন স্মার্টফোন রয়েছে যা আমরা আক্ষরিক অর্থেই আমাদের পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াই – এটি সত্যিই অসাধারণ। আমি বিশ্বাস করি যে একবার BCI প্রযুক্তি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এবং নিউরোটেকনোলজি, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও এআই-এর পারস্পরিক মেলবন্ধন আরও গভীর হলে এই সঙ্গীত সৃষ্টির পদ্ধতিটি যে সঙ্গীত জগতের একটি মূল স্তম্ভ হয়ে উঠবে, সে বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।

২০১৬ সালে মেকফ্যাশন ওয়্যারেবল টেকনোলজি গালা-তে যখন আপনার ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত এলইডি পোশাকটি প্রদর্শিত হয়েছিল, তখন আপনি এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। বিগত পাঁচ বছরে নিউরোটেকনোলজি কতটা এগিয়েছে বলে আপনি মনে করেন? আর বিজ্ঞানের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে আপনার ধারণা কী? সঙ্গীতের ক্ষেত্রে এবং আরও বৃহত্তর অর্থে আপনার অভিমত কী?

হা হা, চমৎকার রসিকতা 🙂 আমাকে বলতেই হবে যে গত ৫ বছরে নিউরোটেকনোলজি যেভাবে এগিয়েছে তা দেখে আমি সত্যি মুগ্ধ। আমি মূলত ২০১৬ সালে Emotiv EPOC+ ব্রেনওয়েভ হেডসেট নিয়ে কাজ শুরু করি। সেই সময়ে, Emotiv-এর কিছু সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের ইন্টিগ্রেশন অন্যদের তুলনায় বেশি উন্নত ছিল। ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত এলইডি পোশাকটির নকশা করার সময় আমাদের যে বিষয়টিকে মাথায় রাখতে হয়েছিল তা হলো আমাদের এমন একটি কম্পিউটার প্রসেসিং সিস্টেমের প্রয়োজন ছিল যা সহজে বহনযোগ্য বা পোর্টেবল হতে পারে।

Emotiv-এর ডেস্কটপ সফটওয়্যার প্রোগ্রামটি বেশ সমৃদ্ধ ছিল, কিন্তু র‍্যাম্পে হাঁটার সময় ব্যাকপ্যাকে ল্যাপটপ বহন করা ফ্যাশনের সাথে মোটেও মানানসই নয়। তাই, তার পরিবর্তে আমাদের ইঞ্জিনিয়ার একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য অ্যাপ তৈরি করেছিলেন যা EPOC+ হেডসেট থেকে ডাটা প্রসেস করতে পারত এবং সেটিকে একটি মাইক্রোকন্ট্রোলারে পাঠাতে পারত যা পোশাকের এলইডি লাইটগুলোর সাথে যুক্ত ছিল। মাইক্রোকন্ট্রোলার এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোন দুটিই পোশাকের পিছনের একটি পকেটে সহজেই লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছিল।

Angie C truly believe science and music go hand in hand

২০১৬ সালে মেকফ্যাশন ওয়্যারেবল টেকনোলজি গালা-তে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত এলইডি পোশাকটি (একটি BCI ডিভাইসের সাহায্যে) প্রদর্শন করা হয়েছিল।

“Emotiv-এর Epoc X সত্যিই অত্যন্ত আকর্ষণীয় দেখতে।”

আর আজকের দিনে দাঁড়িয়ে – Emotiv-এর বিভিন্ন প্রোডাক্ট এবং সফটওয়্যার কোম্পানিটিকে নিউরোটেকনোলজির বাজারে শীর্ষস্থানে নিয়ে এসেছে। আমি নিজেই সম্প্রতি নতুন Epoc X হেডসেটটি অর্ডার করেছি, এবং এটি নিয়ে নতুন কাজ শুরু করতে আমি তর সইছে না!

বিজ্ঞানের এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ এই শাখার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা বলতে গেলে, আমার মনে হয় আমরা কেবল সম্ভাবনার উপরিভাগ স্পর্শ করেছি, ভবিষ্যতে আরও কত কী যে সম্ভব হবে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। ২০০২ সালে যখন ডালহৌসি ইউনিভার্সিটিতে (Dalhousie University) নিউরোসায়েন্সের ক্লাস শুরু করি, তখন নিউরোসায়েন্সের ক্ষেত্রটি কতটা নতুন এবং তুলনামূলকভাবে কতটা অনাবিষ্কৃত ছিল তা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। বিজ্ঞান ও চিকিৎসার অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা যেখানে এত প্রভূত উন্নতি করেছি, সেখানে মানব মস্তিস্ক নিয়ে গবেষণায় আমরা কেন একই রকম শক্তি ও আগ্রহ প্রকাশ করিনি তা আমার কাছে সত্যিই এক বড় বিস্ময় ছিল।

“নিউরোটেকের মাধ্যমে মনের গহীনে অনুসন্ধান।”

অনেকেরই মনে হতে পারে যে এটিই সবচেয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ছিল, কারণ মস্তিস্কই আমাদের প্রকৃত অর্থে সাধারণ থেকে অনন্য মানুষ করে তোলে। কিন্তু কোনো কারণে, হয়তো এর জটিল গঠনের কারণে, মস্তিষ্ক এবং আমাদের মন কীভাবে কাজ করে তা বোঝার পথে আমরা কেবল যাত্রা শুরু করেছি। BCI ডিভাইসগুলি অবশ্যই এই ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করেছে। আমি মনে করি যে নিউরোটেকনোলজিক্যাল ডিভাইসের সাহায্যে মানব মনকে জানার মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের এবং এই জীবনকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সক্ষম হব। নিজের চিন্তাভাবনাকে আরও উন্নত করতে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাকে কীভাবে "হ্যাক" করা যায় তা শিখতে পারাটা আমাদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

আপনার গানের কোন দিকগুলিতে BCI ডিভাইসের ছোঁয়া রয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো শ্রোতাকে সংক্ষেপে কিছু বলবেন? এবং আপনি কীভাবে এই ধরনের সঙ্গীত সৃষ্টি করেন?

আমার অ্যালবামের প্রতিটি গানে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত TONTO-র একটি বিশেষ ছোঁয়া রয়েছে। যেহেতু আমাদের কাছে রেকর্ডিংয়ের জন্য মাত্র দুই দিন সময় ছিল, তাই প্রতিটি গানে কোন বিষয়ের ওপর বেশি ফোকাস করব তার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের নামতে হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, অ্যালবামের প্রথম গান 'ম্যাগনাম চেরি' (Magnum Cherry)-তে গানের শেষ অংশে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত TONTO লিড সিন্থ সুর রয়েছে, যেখানে 'ওয়ার্ল্ডস অ্যাওয়ে' (Worlds Away)-তে একটি "ব্রেনওয়েভ সোলো" মাঝের অংশে রয়েছে যা শুনলে মনে হয় যেন কোনো মহাকাশযান আকাশে উড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও অ্যালবামের অন্যান্য কয়েকটি গানেও আমরা ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত পিয়ানো এবং বাইনরাল বিটস নিয়ে কাজ করেছি।

একটি BCI ডিভাইস দিয়ে সঙ্গীত তৈরির এই পদ্ধতিটি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

“আমি মনে মনে একটি বেগুনি রঙের শিখা কল্পনা করেছিলাম।”

কাজের প্রক্রিয়াটির কথা বলতে গেলে, আমরা TONTO থেকে আসা শব্দ নিয়ন্ত্রণ করতে Emotiv-এর ইমোশনাল স্টেট অ্যালগরিদম ব্যবহার করেছিলাম। আমাদের ইঞ্জিনিয়ার একটি থার্ড-পার্টি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন যা হেডসেট পরিহিত ব্যক্তির মানসিক আবেগ ক্ষণে ক্ষণে কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে (যেমন চাপ, সম্পৃক্ততা, উত্তেজনা) তা আমাদের দেখতে সাহায্য করত। এরপর তিনি সেই সূচকগুলোকে ব্যবহার করে তাঁর তৈরি একটি বিশেষ ডিভাইস "ব্রেন বক্স" (Brain Box)-এর মাধ্যমে TONTO-তে নিয়ন্ত্রণ ভোল্টেজ বা কন্ট্রোল ভোল্টেজ সিগন্যাল পাঠাতেন।

হেডসেট পরিহিত ব্যক্তির ওপর দায়িত্ব থাকত এটি নির্ধারণ করা যে কোন ধরনের চিন্তাভাবনা TONTO থেকে আসা মূল শব্দ বা সুরে পরিবর্তন আনছে। আমার ক্ষেত্রে, যেমন মনে মনে নিঃশব্দে "কেন" প্রশ্নটি করা, অথবা আমার শরীরের মধ্য দিয়ে একটি বেগুনি রঙের শিখা নেমে আসার কল্পনা করা – এই বিষয়গুলো আমাকে পিচ, এলএফও রেট এবং কাটঅফের মতো দিকগুলো সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করেছিল। এটি অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক এবং আনন্দদায়ক এক অভিজ্ঞতা ছিল।

নিউরোটেকনোলজি এবং নিউরো রিসার্চকে আরও ব্যাপক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য Emotiv এর মতো কোম্পানিগুলির প্রচেষ্টাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

আমার মনে হয় Emotiv-এর মতো কোম্পানিগুলি মস্তিষ্ক এবং নিউরো গবেষণার ক্ষেত্রটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এক অসামান্য অবদান রাখছে। সঙ্গীত ও সৃজনশীল ক্ষেত্রে নিউরোটেকনোলজির প্রয়োগের পাশাপাশি, ক্রাউড-সোর্সড নিউরোলজিক্যাল রিসার্চের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি সাধিত হতে চলেছে তা নিয়েও আমি সমানভাবে আশাবাদী। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে আমি দেখেছি যে প্রথাগত বা চিরাচরিত গবেষণা অত্যন্ত ধীরগতিতে চলে এবং অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ও ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। Emotiv যে রিসার্চ-গ্রেড হেডসেটগুলি তৈরি করেছে তা প্রথাগত ইইজি (EEG) গবেষণার সাথে জড়িত অনেক বাঁধাকেই দূর করে দেয়। অংশগ্রহণকারীদের কোনো স্থানীয় হাসপাতালের মতো জায়গায় না গিয়েও, তাঁরা এখন কেবল তাঁদের ব্রেনওয়েভ হেডসেট পরে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে যেকোনো মস্তিষ্কের গবেষণামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে ইন্সট্যান্টলি অংশ নিতে পারেন। আমার মতে, এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দুনিয়ায় অত্যন্ত চমৎকার এক বাস্তব সত্য।

আপনি Emotiv-এর বৈপ্লবিক হেডসেট ব্যবহার করে কিছু মনে রাখার মতো অসাধারণ গান তৈরি করেছেন। এই প্রযুক্তি এবং আপনার মতো শিল্পীদের জন্য এর গুরুত্ব কেমন, সে সম্পর্কে কিছু বলুন?

Emotiv-এর BCI হেডসেট সৃজনশীল হওয়ার এক সম্পূর্ণ নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। শিল্পী হিসেবে আমাদের অন্বেষণ করার মতো অনেক কিছুই রয়েছে এবং আমি অন্যান্য শিল্পীদের সঙ্গীত ও শিল্প তৈরির এই নতুন পদ্ধতিটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য উৎসাহিত করব। এটি দিয়ে নিজের সৃষ্টিশীলতাকে নতুন রূপ দিন!

অ্যাঞ্জি সি-এর নতুন অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও – Worlds Away.

আপনার বহুল প্রত্যাশিত অ্যালবাম “স্টার সিডস্” (Star Seeds) ২৬শে নভেম্বর, শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে? শ্রোতারা এই অ্যালবাম থেকে কী আশা করতে পারেন?

২৬শে নভেম্বর আমার অ্যালবামটি মুক্তি পাওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই অ্যালবামটি শ্রোতাদের মনের গভীর অন্ধকার ও বিষাদময় পরিবেশ থেকে মুক্তি ও স্বাধীনতার এক ভিন্ন মহাজাগতিক সফরে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। আমি আমার গানের কথায় দ্ব্যর্থবোধক শব্দের খেলা রাখতে ভালোবাসি, তাই প্রতিটি লাইনের গভীরে অনেক গুপ্ত বার্তা এবং ভিন্ন অর্থ লুকিয়ে রয়েছে। আমি রুমি-র মতো মহান লেখক ও দার্শনিকদের অনেক বড় ভক্ত, যাঁর লেখা মাত্র অল্প কয়েকটি কথাতেই প্রকাশ পায় অসীম জ্ঞান; আপনার মনকে যদি একটু ঘুরে বেড়াতে দেন, তবে তা গভীর ভাবনায় মগ্ন হতে সাহায্য করে। এই অ্যালবামে আমি সেই অনুভূতিকেই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

সোনিকেলি বা শব্দের দিক থেকে বিচার করলে, আমি এই অ্যালবামটিকে ইলেক্ট্রো-পপ হিসেবে চিহ্নিত করব, তবে আমরা এতে ব্রেনওয়েভ-নিয়ন্ত্রিত পিয়ানোর মতো বেশ কিছু মজার জিনিস যুক্ত করেছি। যে ঘরে TONTO ছিল, সেখানেই ১৯০০ সালের একটি 'জন ব্রডউড অ্যাকোস্টিক গ্র্যান্ড পিয়ানো' (John Broadwood Acoustic Grand Piano) ছিল, তাই আমরা পিয়ানোটি রেকর্ড করার সিদ্ধান্ত নিই। এবং তারপর সেই শব্দটিকে TONTO-র ফিল্টারের মধ্য দিয়ে চালনা করে আমাদের মস্তিস্কের তরঙ্গের সাহায্যে সুরটিকে পছন্দমতো সাজিয়ে নিই। এটি অত্যন্ত পরীক্ষামূলক একটি কাজ ছিল, যার ফলস্বরূপ আমরা একটি আকর্ষণীয় রেকর্ডিং পেয়েছি এবং সাথে একটি চমৎকার ব্যাকস্টোরিও রয়েছে।

আপনি কি আপনার স্বভাবসুলভ ঘরানার শৈলী বজায় রেখেছেন? নাকি “স্টার সিডস্”-এ শ্রোতাদের জন্য আরও অনেক চমক ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা অপেক্ষা করছে?

জানেন কি, আমার মনে হয় আমি অবশেষে আমার সুরের প্রকৃত শৈলী খুঁজে পেয়েছি এই "স্টার সিডস্" অ্যালবামের মাধ্যমে। বেশ কয়েক বছর ধরে আমি হয় সিঙ্গার-সংরাইটার মেজাজে গান লিখছিলাম ও রেকর্ড করছিলাম, অথবা ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিকের জন্য ভোকাল দিচ্ছিলাম। এই অ্যালবামটি তৈরি করা আমাকে সেই দুটি শৈলীর এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটাতে সাহায্য করেছে যার ফলে এমন একটি সুর তৈরি হয়েছে যা সত্যি অনন্য শোনাচ্ছে এবং এর জন্য আমার প্রডিউসার ট্রে মিলস-কে ধন্যবাদ জানাতেই হয়। কোনো শিল্পী নিজের সুর বা স্টাইল কীভাবে বেছে নেবেন সে বিষয়ে তিনি অসামান্য গাইডেন্স দিতে পারেন। এটি কেবল তাঁদের সঙ্গীতের ধরনের ওপর নির্ভর করে না, বরং একজন মানুষ হিসেবে তাঁরা কেমন, তাও ফুটিয়ে তোলে।

কাজের ভবিষ্যৎ এখন এখানেই! - Emotiv

পড়তে থাকুন

কাজের ভবিষ্যৎ এখন এখানেই!